বিজেপি বুথ সভাপতির হত্যাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না। অভিযোগ, বাকচা অঞ্চলের বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইঞাকে নৃশংসভাবে খু’ন করা হয়েছে। এই হত্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে ওই এলাকায়। বিজেপি নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে গতকাল, সোমবার রাতেই ময়না থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতা-কর্মীরা। বিজেপির আরও এক সদস্য নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। তাঁর খোঁজ করছে পুলিশ।
জেলা বিজেপি নেতৃত্ব জানাচ্ছে, ময়না বিধানসভার বাকচা অঞ্চলের ২৩৪ নং বুথের সভাপতি ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইঞা। তাদের অভিযোগ, গতকাল, সোমবার সন্ধেবেলা বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইঞাকে কেউ বা কারা তুলে নিয়ে যায় বাড়ি থেকে। এই খবর পেয়ে বিজেপি নেতৃত্বে তাঁর খোঁজে তৎপর হয়। কিছুক্ষণ পর উদ্ধার হয় বিজয়কৃষ্ণর দেহ।
তাঁর পরিবার ও দলের অভিযোগ, কেউ বা কারা তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকচা এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়, এরপরই খবর মেলে যে সঞ্জয় তাঁতি নামে আরও এক বিজেপি সদস্যের খোঁজ মিলছে না। বিজেপির অভিযোগ, তাঁকেও অপহরণ করেছে তৃণমূল কর্মীরা। বিজেপির এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বিজেপি সদস্যের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
বিজেপি নেতার খু’ন ও বিজেপি কর্মীর নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার রাতেই বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান ময়না থানার সামনে। আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা ময়না-তমলুক রাস্তা অবরোধ করেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা।
তিনি বলেন, “আমাদের বুথ সভাপতি বিজয়বাবু তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর হামলা হয়। হইচই শুনে পাড়ার লোকজন ছুটে এলে বন্দুক দেখিয়ে বিজয়বাবুকে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। বোমাবাজিও করে এলাকায়। পুলিশকে জানানো হল। আমাদের নেতৃত্বকেও জানিয়েছি। রাতেই দেহ উদ্ধার হয়। শুনছি দেহ উদ্ধার করে তমলুকে পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে আদালতে যাব। আমাদের আরেক কর্মী সঞ্জয় তাঁতিকেও তুলে নিয়ে গিয়েছে”।
তবে এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবী ময়নার স্থানীয় তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন হাজরার। তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্কই নেই। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর দেখা গেল বিজেপি তৃণমূলের ঘর ধরে ধরে বাড়ি ভাঙচুর, লুঠপাট চালিয়েছে। পুলিশকেও জানানো হয়েছে”।





