কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে সকাল থেকেই নানান অভিযোগ উঠে আসছিল শাসকদলের বিরুদ্ধে। এবার এক বিস্ফোরক অভিযোগ এলো বিজেপির তরফে। বিজেপি বিধায়কদের আবাসনের গেটে তালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিতরে আটকে রয়েছেন ১২ জন বিধায়ক। তাদের বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। এর পাশাপাশি তিনি এও জানান যে কলকাতা আসার পথে বিজেপি বিধায়কদের আটকানো হয়েছে।
বিধায়ক আবাসনে তালা ঝোলার ছবি দেখা গিয়েছে। শিকল দিয়ে বেঁধে তালা আটকে দেওয়া হয়েছে। আটকে থাকা বিধায়করা জানাচ্ছেন যে আজ সকালে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই তাদের আবাসনে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে,। তাদের কোনওভাবেই বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিধায়কদের কথায়, কলকাতার বাইরে থেকে যদি কোনও বিধায়ক আসেন, তাহলে আটকানো যেতে পারে। কিন্তু কলকাতায় থাকা বিধায়কদের কেন আটকাবে পুলিশ? এই নিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে কিছু না বললেও, পরে তারা দাবী করেন যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই গেটে তালা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবী, এদিন হাওড়া ব্রিজ থেকে নীলাদ্রি জানা নামে এক বিজেপি বিধায়ককে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিবেদিতা সেতু দিয়ে আসার সময় দুর্গাপুরের বিধায়ককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভোটের দিন বিজেপি বিধায়কেরা যাতে কলকাতায় না থাকতে পারেন, এই কারণে এমন ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য পুলিশ। তাঁর দাবী, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র ও রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস, যৌথভাবে এই সব কাজ করছেন।
জানা গিয়েছে, শুধু বিধায়কদের আবাসনেই নয়, জিসি-৩৫ বাড়িতে বিজেপি বিধায়কদের বৈঠক ঘেরাও করেছে বিধাননগর পুলিশ। এই বাড়িতে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-সহ আরও অন্যান্য বিধায়করা। আগে থেকেই নির্ধারিত বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক চলছিল ওই বাড়িতে।
পুলিশের দাবী, কলকাতায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। এই কারণে বিধায়কদের আটকানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে কলকাতায় না হয় ১৪৪ ধারা রয়েছে কিন্তু বিধাননগরে তো নেই। বিধাননগর এলাকা কলকাতার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাহলে কেন বিধাননগরে পুলিশ ও পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিজেপির বৈঠক ঘেরাও করা হল?





