তৃণমূলে কি ফুটবে মুকুল? বিজেপিকে এড়িয়ে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বিধায়ক মুকুল রায়ের

তৃণমূলকে প্রথমবার বাংলার মসনদে আনার পিছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। চোখ-কান বুঁজে মুকুলে ভরসা করতেন মমতা। এহেন সেনাপতিই ২০১৭তে দল বদলে বিজেপিতে চলে যান।

তবে শান্ত মাথার এই নেতা অত্যন্ত কৌশলী। তাইতো রাজ্য রাজনীতিতে তাঁকে চাণক্য বলা হয়।

বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রথমবার জয় যুক্ত হয়েছেন তিনি। কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। কোথায় গেলেন মুকুল? প্রশ্ন উঠছিল! ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছিল তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ সেইজন্যই প্রকাশ্যে আসছেন না।

তবে বিধানসভায় শপথ গ্রহণের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আজকে নজর কাড়লেন মুকুল। তবে একটি বিশেষ কারণে। শুক্রবার তিনি নির্ধারিত সময়েই পৌঁছন বিধানসভায়। ঠিক ১০ মিনিট সেখানে ছিলেন।

আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজ্যপালের, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার রিপোর্ট পেশের আগে বিশেষ আলোচনা

কিন্তু সব থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় শপথগ্রহণের পর বিজেপি পরিষদীয় দলের ঘরে না গিয়ে সোজা তৃণমূল পরিষদীয় দলের ঘরের দিকে চলে যান তিনি। সেখানে দেখা করলেন তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে, চলল সৌজন্য বিনিময়ও।

তবে বরাবরের সজাগ মুকুল রায় এর পরেই চুপ করে যান। শুধু বলেন, “মানুষের জীবনে এমন দু-একটা দিন আসে, যখন মানুষকে চুপ থাকতে হয়।”

 
প্রথমবারের মতো কোন‌ও নির্বাচনে জয়ের পর বিধায়কের শপথ নিতে এসে মুকুলের আচরণ কিন্তু উসকে দিয়েছে একাধিক জল্পনা। এদিন বিধানসভা কক্ষে তাঁদেরও শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। শপথ বাক্য পাঠের পরই মুকুল রায়কে ঘিরে ধ্বনি ওঠে, দলনেতা হতে হবে। কিন্তু বিজেপি নেতা এসবে ভ্রুক্ষেপ না করে সোজা তৃণমূল পরিষদীয় দলের ঘরে যান। সেখানে গিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক সুব্রত বক্সির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন, অন্যদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে চলে যান। তবে আশ্চর্যজনক বিষয়, বিজেপি বিধায়ক হয়েও একটিবারের জন্য‌ও বিজেপি পরিষদীয় দলের ঘরে ঢোকেননি মুকুল রায়। সেই সঙ্গে এড়িয়ে গিয়েছেন পরিষদীয় দলের বৈঠকও।

আরও পড়ুন- বিজেপি করা ‘অপরাধ’! প্রকাশ্য রাস্তায় ‘বাংলার মেয়ে’কে কান ধরে উঠবস করালেন তৃণমূল নেত্রী

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই নিজেকে আড়াল করছেন মুকুল রায়। এর কারণ হতে পারে সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর নজরকাড়া সাফল্যে বিরোধী দল নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। সেখানে কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেও অনেকটাই পিছিয়ে চাণক্য মুকুল। সেখান থেকেই কি এবার জন্মাচ্ছে ক্ষোভ? তবে কি ফের মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করে ধরতে ঘর ওয়াপসি করতে পারেন মুকুল? বঙ্গ রাজনীতির নতুন নাটক কি হতে চলেছে তা হয়তো সময়‌ই বলবে।

আরও অন্যান্য খবর