এক সপ্তাহেই তিন উইকেট পড়ল বিজেপির! তৃণমূলে ফিরলেন কালিয়াগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন রায়

এই নিয়ে এক সপ্তাহে তিনবার। মুকুল রায়ের পথ ধরে আগেই বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরেছিলেন বিধায়ক তন্ময় ঘোষ ও বিশ্বজিৎ দাস। এবার গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূল ওয়াপসি করলেন কালিয়াগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন রায়। এদিন তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

সৌমেন যে তৃণমূলে ফিরতে পারেন, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পায়নি। কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গে বিজেপির বৈঠকে যোগ দেন তিনি। তখনও কেউ বুঝতে পারেনি যে তিনি ভেতরে ভেতরে বেসুরো। বরং, সেদিনের অনুষ্ঠানে তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধেই নানান অভিযোগ আনেন।

আরও পড়ুন- ‘ভবানীপুরেই হঠাৎ ভোট কেন, বাকী কেন্দ্রে কেন নয়? কমিশনকে প্রভাবিত করা হয়েছে’, দাবী দিলীপ ঘোষের

সেদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সৌমেন বলেন, “শাসকদল কাজ করতে না দেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। জেলাশাসকদের সাহায্য পাচ্ছি না। ফলে অনেকেই অসন্তুষ্ট। তবে আমরা বিজেপি তেই রয়েছি বিজেপিতে থাকবো”। কিন্তু মুখে একথা বললেও শেষমেশ পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলেই ফিরলেন সৌমেন।

এদিন সৌমেন দলে ফেরার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দল থেকে যারা অন্য দলে চলে গিয়েছিলেন তাদের কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই আমরা দলে ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। এবার বিজেপির বিধায়ক সৌমেন রায় দলে যোগ দিতে আবেদন করেছিল। উত্তরবঙ্গে কাজের জন্যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশে থাকতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁকে নেওয়া হল”।

আজ ঘর ওয়াপসির পর সৌমেন স্পষ্ট জানান, “মাঝখানে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। দিদির উন্নয়নকে সামনে রেখেই উত্তরবঙ্গের জন্য কাজ করতে চাই”। তাঁর যুক্তি শুধু তিনিই নন, দলে ফেরার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করে রয়েছেন।

সৌমেনের কথায় তিনি ঘটনাচক্রে বিজেপিতে দেন। কিন্তু তাঁর মন সবসময় পড়েছিল তৃণমূলে। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর নাম না নিয়েই তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারে না”।

কিন্তু হঠাৎ বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন সৌমেন? জবাবে তিনি বলেন, “বিজেপির কালচারের সাথে বাংলার কালচার মেলে না৷ আর বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি বাঙালি পছন্দ করে না।বাংলা এক ছিল, এক‌ই থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে”।

আরও পড়ুন- জামিন চাইতে যাওয়াই কাল, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার তৃণমূল কর্মী

সৌমেন রায়ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের প্রার্থী ছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অনন্ত মহারাজের সুপারিশে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সামনেই উপনির্বাচন, কিন্তু এর আগেই বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল বিজেপি। এক সপ্তাহেই তিনজন বিধায়ক দলবদল করলেন।

RELATED Articles