‘তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য ধৃত চন্দন মণ্ডলকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলতে পারে তৃণমূল’, বিস্ফোরক দাবী বিজেপি বিধায়কের

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (teachers recruitment scam) মামলায় গতকাল, শুক্রবার ‘রঞ্জন’ ওরফে চন্দন মণ্ডলকে (Chandan Mandal) গ্রেফতার করেছে সিবিআই (CBI)। এবার এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক বিস্ফোরক দাবী করলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার (Swapan Majumdar)। তাঁর দাবী, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য রঞ্জনকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলতে পারে তৃণমূল (TMC)।

গতকাল, শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার সুটিয়ায় বিজেপির একটি সভা ছিল। সেই সভাতেই বক্তব্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধক স্বপন মজুমদার বলেন, “নিয়োগ দুর্নীতির একটি গোড়া আমাদের মহকুমাতেই আছে। তাঁর নাম চন্দন মণ্ডল। তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে। আগামিদিনে আরও নাম সামনে আসতে পারে। তথ্য প্রমাণ লোপাট করতে চন্দনকে মেরে ফেলা হতে পারে”।

শুধু তাই-ই নয়, এই প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাংলার সরকারকে আমরা বিশ্বাস করি না। এরা ছলনাময়ী। জেলে এরা লোক ঢোকাতে পারে। আসল চোর সামনে আনতে গেলে এদের সুরক্ষা দিতে হবে”।

এদিনের এই সভা থেকেই সিবিআই আধিকারিকদের উদ্দেশে স্বপন মজুমদার বলেন, “চন্দন মণ্ডলকে সামলে রাখবেন। তাঁকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলতে পারে তৃণমূল সরকার। তথ্য প্রমাণ লোপাট করার জন্য। তাঁকে জেরা করলে যদি অন্য কোনও নেতার নাম এসে যায়। সে কারণে তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে”।

বিজেপি বিধায়কের এহেন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। পাল্টা তোপ দেগে তিনি বলেন, “ইডি, সিবিআই ,তাহলে কী করতে আছে। আসলে স্বপন মজুমদারের কোনও কাজ নেই, জনসংযোগ নেই। কুৎসিত, কুরুচিকর কথা বলে কী ভাবে প্রচারে থাকা যায় সেই করছেন ওরা”।

উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস সোশ‌্যাল মিডিয়ায় প্রথম উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার ‘রঞ্জনে’র নাম প্রকাশ্যে আনেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে এই ‘রঞ্জন’ ওরফে চন্দন মণ্ডল চাকরি বিক্রি করছেন। তাঁর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রঞ্জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সিবিআই।

এরপর থেকে রঞ্জনকে সিবিআই একাধিকবার তলব করেছে। কিন্তু ‘রঞ্জন’ দাবী করেন যে উপেন বিশ্বাস নাকি ফাঁসিয়েছেন তাঁকে। তাঁর সঙ্গে এই দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবী করেন তিনি। কিন্ত উপেন বিশ্বাস কেন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন, তা জানার জন্যই রঞ্জনকে বারবার জেরা করা সিবিআই। বেশ কিছু তথ্য ও নথি তুল ধরা হয় তাঁর সামনে। সিবিআইয়ের দাবী, রঞ্জন বারবার সিবিআই আধিকারিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। এই কারণে অবশেষে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

RELATED Articles