একদিকে যখন মা দুর্গার আগমনে সেজে উঠেছে গোটা শহর তথা রাজ্য। মা দুর্গার মর্ত্যে আসার আনন্দে চারিদিক যখন আলোময়, তখন রাতের অন্ধকারে নির্মম অত্যাচার চলল এক কিশোরীর উপর। দ্বিতীয়ার রাতে এক ১৩ বছরের কিশোরীকে ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ উঠল বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গতকাল, বুধবার গ্রেফতার করা হয় ওই বিজেপি কর্মীকে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম থানা এলাকায়। ওই নাবালিকার পরিবার সূত্রে খবর, দ্বিতীয়ার রাতে অর্থাৎ সোমবার ওই বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য ওই কিশোরীকে ডেকে পাঠায় তার দোকানে। সেই দোকানেই নাবালিকাকে ধ’র্ষ’ণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি নিয়ে পরদিনই থানায় অভিযোগ করতে যাচ্ছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু সেই সময় তাদের হুমকির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।
তবে বুধবার সকালে তারা অভিযোগ জানায় পতিরাম থানায়। অভিযোগ পেয়েই পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। অভিযুক্ত ওই বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও নিজের দিকে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এই ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।
জানা গিয়েছে, ওই বিজেপি কর্মীর এলাকায় একটি মুদির দোকান রয়েছে। সেই দোকানেই নাবালিকাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধ’র্ষ’ণ করেন তিনি। নাবালিকাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা। অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়। ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর তৃণমূলের আদিবাসী সেলের জেলা সভাপতি সন্তোষ হাঁসদা অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের কড়া শাস্তির দাবী তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “পরিবারকে ক্রমাগত ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁরা কোনওভাবে গ্রাম থেকে এসে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি”।
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর জানান, তিনি এই নিয়ে কিছু জানেন না। তবে তিনি ঘটনার খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তাঁর কথায়, “কেউ যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তাহলে আমরা কঠিনতম শাস্তির দাবী জানাব”।





