পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই রহস্য মৃত্যু বীরভূমের নাবালকের। গত বৃহস্পতিবার রাতে বীরভূমের মল্লারপুরের বারুইপুরের বাসিন্দা শুভ মেহেনা নামের এক ১৫ বছরের নাবালককে মোবাইল চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানার মধ্যে রেখেই বেধড়ক মারধর করা হয় তাকে। থানাতেই মৃত্যু ঘটে ওই নাবালকের। এরপর আজ সকালে তার বাড়িতে মৃত্যুর খবর পাঠায় পুলিশ।
এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। মৃতের পরিবারের দাবী পুলিশই খুন করেছে তাদের ছেলেকে। এরপর পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ বিক্ষোভ উগড়ে দেয় তারা। অভিযোগ, তাদের ছেলেকে হেফাজতে রেখে অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে, এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশের শাস্তির দাবীও জানান তারা। এই ঘটনার তদন্তের দাবীতে মল্লারপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি, রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে চলছে বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীদের দাবী, নাবালক হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কেন তাকে নিজেদের হেফাজতে নিল? এদিকে জেলা পুলিশ সুপারের দাবী, ওই নাবালককে লকআপের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। সে পড়ে শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে সেখান থেকে উঠে যায়। এরপর শৌচাগারেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে নাবালকের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সুপারের এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “কোনও গামছা নেই, দড়ি নেই, তাহলে নাবালক লকআপের মধ্যে আত্মঘাতী হল কী করে?” পুলিশকে তীব্র আক্রমণ করে দিলীপবাবু বলেন যে পুলিশ রাজনৈতিক ক্যাডারের মতো আচরণ করছে। বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই ওই নাবালককে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন দিলীপ ঘোষ। তার সুরে গলা মিলিয়েছেন অন্যান্য বিজেপি নেতারাও। এই ঘটনার প্রতিবাদে মল্লারপুরে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি।





