বেশ কিছুমাস আগেই পেগাসাস ইস্যু নিয়ে উত্তাল হয় গোটা দেশ। ইজরায়েলি সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিরোধী নেতা ও সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ ওঠে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকি, নিজের ফোনে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে এই নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই পেগাসাস নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
তিনি দাবী করেন যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে রাজ্যের বিরোধী নেতাদের ফোনে আড়ি পাতছে মমতা সরকার। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত বলেন, “আমি যতদূর আইন জানি, পেগাসাস কেন্দ্র ও রাজ্যের যেকোনও তদন্তকারী সংস্থা ব্যবহার করতে পারে। আমাদের কাছে বিভিন্ন সূত্র মারফত খবর এসেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বিভিন্ন বিরোধী নেতাদের ফোনে আড়ি পাততে পেগাসাস ব্যবহার করেছে”।
পেগাসাস ইস্যু নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি সরব হয় তৃণমূল। তবে সেই সময় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পেগাসাস ব্যবহার করার অভিযোগ আনেন নি রাজ্যের বিরোধী নেতারা। তবে এবার বিজেপির রাজ্য সরকারের এমন দাবীর জেরে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সুকান্ত মজুমদারের এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে এক সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “জয়প্রকাশ মজুমদার আগেই বলেছেন সুকান্ত মজুমদার ২ বছর আগে দলে এসেছে। এখন ওনার প্রশিক্ষণের সময় চলছে। ফলে ভুলভ্রান্তি হয়ে যায়”।
আবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করেও কুণাল বলেন, “সুকান্ত বাবুর উচিৎ পেগাসাস অধিকারীর (পড়ুন শুভেন্দু অধিকারী) সঙ্গে কথা বলে নেওয়া। কারণ উনি প্রকাশ্যে বলেছেন ওনাপ ফোন থেকে সবার ফোনের কথা শোনা যায়। এই তদন্তে কেন্দ্রের উচিৎ শুভেন্দকে হেফাজতে নিয়ে তাঁকে জেরা করা”।
আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে সংসদে বাজেট অধিবেশন। এই অধিবেশনে যে পেগাসাস ইস্যু নিয়ে বেশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। কারণ, সম্প্রতি এক মার্কিন সংবাদপত্রের রিপোর্টে দাবী করা হয়েছে যে ২০১৭ সালে ইজরায়েলের থেকে ভারত সরকার ২০০ কোটি টাকা দিয়ে পেগাসাস সফটওয়্যার কিনেছিল।
‘The Battle for the World’s Most Powerful Cyberweapon’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উক্ত ওই সংবাদপত্র দাবী করে যে পেগাসাসের পাশাপাশি আরও বেশকিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল।





