তৃণমূলের তরফে পুরসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই নিয়ে ভোটের আগে শাসকদলের বিরুদ্ধে একটা ইস্যু পেয়ে গিয়েছে বিরোধীরা। কিন্তু বিজেপির মধ্যেও বিড়ম্বনার অন্ত নেই। পুরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার জন্য হাতে রয়েছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু বিজেপির তরফে এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সোমবার দুপুরে তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও। তা হয়নি। এরপর ১০৮টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলে, মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে বেশ সংশয়ে পড়বে প্রার্থীরা, এমনটাই মনে করছে দলের একাংশ।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি ১০৮টি পুরসভায় ভোট হবে। চলছে মনোনয়ন জমা নেওয়ার কাজ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৯ই ফেব্রুয়ারি। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ই ফেব্রুয়ারি। স্ক্রুটিনি হবে ১০ ফেব্রুয়ারি।
১০৮টি পুরসভার জন্য প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এতজন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়া মোটেই মুহূর্তের কাজ নয়। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, এই মনোনয়ন পত্র পূরণ করতে হয় খুবই সাবধানে, দেখেশুনে।
কোনও ভুলত্রুটি হয়ে গেলে মনোনয়নই বাতিল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বিজেপি এখনও প্রার্থী তালিকাই প্রকাশ করেনি। যদি ধরা হয় জেন সোমবার রাতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবে আর প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেবেন মঙ্গল ও বুধবার। কিন্তু এর মধ্যে যদি কোনও প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে সমস্যা হয়, তাহলে তা শোধরানোর সময় কখন পাবেন তারা, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
নিচুতলার কর্মীরা বুঝতে পারছেন না যে চলছেটা কী দলের মধ্যে। এরই মধ্যে এমন প্রশ্নও উঠছে যে বিজেপি আদৌ সবকটি আসনে প্রার্থী দিতে পারবে তো? কারণ সূত্রের খবর, প্রার্থী খুঁজতে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বিজেপিকে। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখে খোলেন নি দলের কেউ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দু’ একটি পুরসভায় বিজেপি জেলা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু ১০৮টি পুরসভার নিরিখে তা কিছুই নয়। এসবের মধ্যেই সোমবার রাতে বিজেপির ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কোনওরকম সাংবাদিক বৈঠক হবে না বলেই জানা যাচ্ছে।
কিন্তু তালিকা যতক্ষণ না প্রকাশ হচ্ছে, কর্মী, সমর্থকরা জোর পাচ্ছেন না। তবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের যুক্তি, “আমরা পারিনি নয়, করিনি। সময় হলেই হবে। কিছু সংবাদমাধ্যম ও হতাশ বামপন্থীরা আর তৃণমূল এসব বলছে”।





