ধন্য রাজনীতি! পরিবার বিজেপি সমর্থক তাই কন্যাশ্রী পাচ্ছেন না পাঁচ দরিদ্র পড়ুয়া

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প কন্যাশ্রী বর্তমানে সারা ভারতের কাছে এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। গ্রাম থেকে শহরে প্রত্যেক ছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু তার রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেই এবার কন্যাশ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বেশ কিছু ছাত্রী। এরকমই অভিযোগ উঠলো ভাতারের আমারুন ১ নম্বর পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছাত্রীদের অভিভাবকরা বিজেপি করেন তাই পাঁচ ছাত্রীকে কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দিতে চাইছে না। এরকমই ঘোরতর অভিযোগ তুলে বিডিওর দ্বারস্থ হলেন পাঁচ ছাত্রী।

জানা যাচ্ছে ওই পাঁচ জন ছাত্রী আমারুন স্টেশন শিক্ষানিকেতনে পড়েন। তারা প্রত্যেকেই দশম, একাদশ অথবা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।তাঁরা জানান, রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের অনুদানের জন্য স্কুল থেকে বলা হয়েছে আবেদনপত্র জমা দিতে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজন হয় পঞ্চায়েতের দুটি শংসাপত্রের। পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র এবং আবেদনকারী যে অবিবাহিতা তার প্রমাণপত্র।

মৌসুমী মালিক নামের ছাত্রী বলেন, ওনারা বার বার গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে গেছেন, বাড়িতেও গেছেন কিন্তু শংসাপত্র দিচ্ছে না। গত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের অভিভাবকরা বিজেপির হয়ে ভোট প্রচার করে, তাই পরিকল্পনামাফিক ইচ্ছে করেই ঘোরানো হচ্ছে।

এক ছাত্রীর মা অতসীদেবী দাবি করেন , শুধুমাত্র বিরোধী দলের সমর্থক হওয়ার কারণেই উনি শংসাপত্র দিতে চাইছেন না। ফলে কন্যাশ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের সন্তান। তাই আমরা বিডিওর কাছে এসেছি।

আমারুন গ্রামেই বাড়ি আমারুন ১ পঞ্চায়েত প্রধান দীপক ভট্টাচার্যের দাবি অবশ্য ভিন্ন। পঞ্চায়েত প্রধানের কথায়, “ওই ছাত্রীদের বাড়ির লোকজনই বলেছে, তাঁদের কন্যাশ্রী প্রকল্পের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নেই। তবুও ওই ছাত্রীদের বাবাদের বলা হয়েছিল পঞ্চায়েত অফিসে দেখা করতে। কারণ, অভিভাবকরা ছাড়া নাবালিকা ছাত্রীদের শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁরা কেউ আসেননি। এলেই শংসাপত্র পেয়ে যাবেন।”

আরও অন্যান্য খবর