নজিরবিহীন! কলকাতার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকার তছরুপে অভিযুক্ত তৃণমূলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জোট স্থাপন করে শ্রমিক সমবায় ভোটে মহাজোট বাম-কংগ্রেস-বিজেপির!

বাংলার রাজনীতিতে একথা যেন ভাবাই যায় না। এমন ঘটনা যে অসাধ্য, তাই-ই সকলে মেনে এসেছে। কিন্তু তবুও এই অসাধ্য সাধন করল শ্রমিক সমবায়ের ভোট। একদিকে যখন রাজ্য সরকারের নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাম, কংগ্রেস, বিজেপি তৃণমূলকে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েই চলেছে, সেই সময় দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র শ্রমিক সমবায়ের নির্বাচনের জন্য সেই তৃণমূলের সঙ্গেও গাঁটছড়া বাঁধতে দেখা গেল বাম-কংগ্রেস-বিজেপিকে।

এমন এক মহাজোট যে নজিরবিহীন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শ্রমিক সমবায়ের নির্বাচনের জন্য বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথমবার একজোটে লড়তে চলেছে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল-বিজেপি। তদের এই লড়াই ‘অরাজনৈতিক সংগঠন’ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি বা এসএসসি-র বিরুদ্ধে। শহর কলকাতা এমন এক বিরল জোটের সাক্ষী থাকতে চলেছে আগামী ২৫শে আগস্ট।

সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে থাকা সংস্থা গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের শ্রমিক সমবায় কমিটির নির্বাচন। শেষ ২০১৫ সালে হয় এই নির্বাচন। সেই সময় এই নির্বাচনে জয়লাভ করে এসএসসি-ই। এরপর সাত বছর পর ফের এই নির্বাচনের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সমবায় দফতর। তবে গত ডিসেম্বরে এই সংস্থার স্বীকৃত সোল বার্গেনিং এজেন্ট নির্বাচনে নীতি আদর্শহীন এই মহাজোটের কাছেই পরাজিত হয় এসএসসি। তবে নিজেদের জমি পুনরুদ্ধার করতে একচুলও জমি ছাড়বে না তারা।

নজিরবিহীন! কলকাতার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকার তছরুপে অভিযুক্ত তৃণমূলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জোট স্থাপন করে শ্রমিক সমবায় ভোটে মহাজোট বাম-কংগ্রেস-বিজেপির!

প্রসঙ্গত, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সমবায় পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তৃণমূল-সিপিআই। সেই সময়ের অডিট রিপোর্টে কয়েক লক্ষ টাকার আর্থিক তছরুপের ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগের তালিকায় সেই সময়ের সমবায়ের সম্পাদক, কোষাধক্ষ্য সহ তৎকালীন পদাধিকারীরা। সেই ঘটনাকে সামনে রেখেই এই মহাজোটের বিরুদ্ধে লড়তে ময়দানে নেমেছে এসএসসি। রাজ্য সরকারের নানান দুর্নীতিকে হাতিয়ার করেই প্রচার চালাচ্ছে তারা।

এই ভোটে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল-বিজেপি শ্রমিক সংগঠন অর্থাৎ সিটু, এআইটিইউসি, আইএনটিইউসি, ভারতীয় মজদুর সংঘ এবং সর্বোপরি আইএনটিটিইউসি-এর জোট লড়ছে চক্রের প্রতীকে। আর অন্যদিকে, সূর্যমুখী ফুল হল এসএসসি-র প্রতীক। এই নির্বাচন নিয়ে এসএসসি নেতা কমল তিওয়ারি বলেন, এক নজিরবিহীন অনৈতিক জোট সামনে এসেছে এই ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কাছে। শিক্ষাক্ষেত্রের বিপুল দুর্নীতি নিয়ে যারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে দিবারাত্র গলা ফাটাচ্ছে, তারা এখন হাতে হাত মিলিয়েছে কারখানার অভ্যন্তরে। এই দ্বিচারিতার জবাব তারা পাবে ২৫ তারিখ”।

অন্যদিকে, আইএনটিটিইউসির সঞ্জীবশেখর দাস, সিটুর সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়, এআইটিইউসির প্রদীপ পাড়ুইয়ের মতো ইউনাইটেড ফোরামের শীর্ষনেতারা এক সুরে বলেন, “কারখানার চার দেওয়ালের বাইরের রাজনীতি ভিন্ন। সেক্ষেত্রে মতাদর্শগত কোনও আপস আমরা করি না। সমবায় ভোটে শ্রমিক-কর্মচারীরা নিজেদের পছন্দমতো প্যানেল তৈরি করেছে। আমরা একটি প্যানেলের প্রার্থীদের সমর্থন করতে পারি মাত্র। এর সঙ্গে বাইরের রাজনীতির সম্পর্ক নেই”।

RELATED Articles