ভোটের আবহে ফের শাসকদল-বিরোধী সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয় যে তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে, পাল্টা তৃণমূলের দাবী, তাদের এক কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। এর জেরে চরম উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, শনিবার রাতে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাতে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তৃণমূল দুষ্কৃতীরা। এরপরই দল বেঁধে তাদের কার্যালয়ে চড়াও হয় তারা। ভাঙচুর চালানো হয়। চেয়ার-টেবিল ভেঙে দেওয়া হয়, ফ্লেক্স ও কাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
আরও পড়ুন- মোদী-শাহ্’র দাসত্ব করছে কমিশন, নির্বাচন কমিশনকে নজিরবিহীন আক্রমণ অভিষেকের
এই ঘটনায় বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতি মণিরত্ন সাহা বলেন, “সাড়ে ৯টা পৌনে ১০টা নাগাদ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা কালীতলার কার্যালয়ে ঢুকে টিভি, চেয়ার ভেঙে দেয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় ফেস্টুন। মত্ত অবস্থায় আমাদের ছেলেদের মারার করার চক্রান্ত চলছিল। এই শান্তিপূর্ণ জায়গাটি যাতে অশান্ত না হয়ে ওঠে, তার জন্য এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর আর্জি জানাচ্ছি”।
তবে এই অভিযোগ কার্যত খারিজ করা হয়েছে শাসকদলের তরফে। তাদের পাল্টা দাবী, প্রায় কয়েক’শো বিজেপি কর্মী মিলে লালন পাল নামে তাদের এক কর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁর ঘরের টিনের দেওয়ালে লাথি মারা হয়। এমনকি, লালনের ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বিজেপি কর্মীরা, এমন অভিযোগও ওঠে।
আরও পড়ুন- বিজেপি প্রার্থীর প্রচারের তোড়জোড়, তার আগেই রাতভোর বোমাবাজি চলল সাঁইথিয়ার গ্রামে
বিজেপি-র প্রায় পাঁচশো লোক তাঁর বাড়ি ঘেরাও করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন লালন। তিনি বলেন, “রাতে প্রচুর লোক মিলে বাড়ি ঘিরে ধরেছিল। প্রায় শ’পাঁচেক লোক তো হবে। সবাই বিজেপি-র। আমি বেরোলে বলে, ‘আপনার ছেলেকে বার করে দিন। আমাদের হাতে তুলে দিন।’ আমি হাতজোড় করে ওদের বললাম, এ রকম কোরো না। গন্ডগোল কোরো না কেউ”। তিনি তৃণমূল করেন, এই কারণেই বিজেপির লোকজন দলবেঁধে হামলা চালায় বলে দাবী লালনের।





