অভাবকে পিছনে ফেলেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই, দুই ভাইবোনের বিদ্যার খরচ জোগান স্বয়ং বিদ্যার দেবীই

আর দু’দিন বাদেই পরীক্ষা। একদিকে চলছে জোরকদমে পড়াশোনা আর অন্যদিকে চলছে মূর্তি গড়ার কাজ। কারণ সেই মূর্তি বিক্রি করে যে টাকা আসবে, তা দিয়েই যে আগামীতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে তাদের। সেই অর্থে দেখতে গেলে স্বয়ং বিদ্যার দেবীই কিন্তু বিদ্যার খরচ জুগিয়ে দিচ্ছেন দুই ভাইবোনের। আর তাদেরও বিদ্যার দেবীর কাছে একটাই প্রার্থনা, পরীক্ষাটা যেন ভালো হয়।

কারা এই দুই ভাইবোন?

এই দুই ভাইবোনের নাম পলাশ সূত্রধর ও মিতালী সূত্রধর। পুরুলিয়ার জয়পুর ব্লকের চটিপাড়াতেই তাদের বাড়ি। সেখানেই দুর্গা মন্দির ভাড়া নিয়ে সরস্বতী প্রতিমা বানানোর কাজ চলছে দুই ভাইবোনের। এটা তাদের পারিবারিক পেশা বটে। সামনে পরীক্ষা থাকলেও পেটের দায়ে কাজ চালিয়ে যেতেই হচ্ছে দুই ভাইবোনকে।

পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই ভাইবোন। পলাশ জয়পুর বিক্রমজিৎ মেমোরিয়াল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র আর মিতালী জয়পুরের আরসিবি স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। পলাশের পরীক্ষা শুরু ৩ মার্চ থেকে কিন্তু মিতালীর পরীক্ষা শুরু ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই। তাই একদিকে চলছে বইয়ে চোখ রাখা আর অন্যদিকে চলছে তুলির টান। দুইয়ে মিলেই আপাতত দিন কাটছে ভাইবোনদের।

পলাশ-মিতালীর মা-বাবাও আলাদা করে মূর্তি গড়ছেন। তারা সকলে মিলে মাঝারি-বড় মিলিয়ে ৩০০টি মূর্তি তৈরি করেছেন। এর মধ্যে পলাশ গড়েছে ৯০টি। আর মিতালী বানিয়েছে ৫০টি। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ অর্থাৎ প্রতিমাকে শাড়ি পরানো, গয়নায় সাজিয়ে তোলা এসবই।

পলাশ জানাচ্ছেন, “এটা আমাদের পারিবারিক কাজ। সংসার চালাতে আমাদের এই কাজ করতেই হবে। না হলে পেট চলবে না। তাই সামনে পরীক্ষা থাকলেও তার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের এই প্রতিমা তৈরি করতে হচ্ছে”।

মিতালীর কথায়, “আমার পরীক্ষা একেবারে দোরগোড়ায়। তাই আমি ৫০টা প্রতিমা তৈরি করার দায়িত্ব নিয়েছি। কাজ অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছি। আর কয়েকটা রাত জাগলেই ফিনিশিং টাচ দিয়ে বিক্রি করতে পারব”।

মা-বাবার কাছেই প্রতিমা গড়ার হাতেখড়ি দুই ভাইবোনের। তাদের মা বলেন, “বছর আটেক আগে ওর বাবার ভীষণ শরীর খারাপ হয়েছিল সরস্বতী পুজোর সময়। তখন আমি আর পলাশ মিলে সমস্ত সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করি। তখন থেকেই পলাশের এই কাজে হাত বসে গিয়েছে”।

তবে শুধুমাত্র সরস্বতীই না, মনসা, লক্ষ্মী, কালী, বিশ্বকর্মা সব মূর্তিই বানাতে পারে দুই ভাইবোন। পলাশ তো আবার দুর্গা মূর্তিও বানিয়েছে। সরস্বতী পুজোর সময় দুর্গা মন্দির ভাড়া করে মূর্তি গড়ার কাজ করে তারা। সরস্বতী ঠাকুরের সেভাবে বরাত মেলে ঠিকই কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব মূর্তি ঠিক বিক্রি হয়ে যায়। নিজের এলাকার ক্লাবের পুজোর জন্যও সরস্বতী মূর্তি বানিয়েছে পলাশ। তাঁর কথায়, “এলাকার ক্লাবের পুজো। তাই ওই প্রতিমা ২ হাজার টাকায় দেবো। এটা আগে থেকেই বরাত পেয়েছি”। এভাবেই বিদ্যার দেবীর আশীর্বাদে চলতে থাকুক দুই ভাইবোনের সংগ্রাম।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles