সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত রাজ্যের পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়। সন্দেশখালির ঘটনায় এবার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট।
এদিন আদালতে সন্দেশখালির দুটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এক, আদিবাসীদের জমি দখলের অভিযোগ। আর দুই, মহিলাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাদের ধ’র্ষ’ণ করার মতো ঘৃণ্য অভিযোগ। এই ঘটনায় আদালত বান্ধব হিসেবে বিচারপতি নিয়োগ করেছেন আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়কে। এই ঘটনায় আগামী শুনানিতে রাজ্যের পিপি দেবাশিস রায়কে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি রয়েছে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি। ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৩৮ দিন আগে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়ি ইডির তল্লাশি করতে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে। সেদিন ইডির উপর হামলা চালায় শাহজাহানের অনুগামীরা। এরপর থেকেই পলাতক শাহজাহান। ইডি তিনবার তলব করলেও হাজিরা দেন নি তিনি।
এরই মধ্যে দিন চারেক আগে শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ শিবু হাজরা ও উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন সন্দেশখালির মহিলারা। বাঁশ, লাঠি হাতে প্রতিবাদ দেখান তারা। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দেন সেখানকার মহিলারা। তাদের অভিযোগ, রাতে তাদের ঘরে ঢুকে মিটিংয়ের নাম করে তাদের পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হত। আবার ভোরবেলা বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হত। এভাবেই তাদের উপর দিনের পর দিন ধরে শারীরিক অত্যাচার ও শ্লীলতাহানি করেছে তৃণমূল নেতারা।
মহিলাদের আরও অভিযোগ, এই বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাদের এফআইআর নিত না। বরং উল্টে আবার শিবু হাজরা, উত্তম সরদারদের কাছেই পাঠিয়ে দিত বলে অভিযোগ। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ বর্ষণ করেছেন সন্দেশখালির মহিলারা। এবার এই দুই বিষয় নিয়েই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট।





