সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির মানুষদের কাছে রাতের অন্ধকার মানেই আতঙ্কের আরেক নাম। কখনও পাচারচক্রের দৌরাত্ম্য, কখনও বা নিরাপত্তারক্ষীদের টহলদারি, সবমিলিয়ে একটা চাপা উত্তেজনা লেগেই থাকে। জলপাইগুড়ির মতো এলাকায়, যেখানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল, সেখানে এই পরিস্থিতি আরও তীব্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত গভীর হলেই শুরু হয় ছায়াযুদ্ধ। কেউ গবাদি পশু পার করে ও পারে, আবার কেউ বা নকল পণ্য আনিয়ে নেয় এপারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএসএফ (BSF)-এর কড়া নজরদারি থাকলেও পাচারকারীরা ক্রমাগত নতুন কৌশল নিয়ে হাজির হয়। আর এই লুকোচুরি খেলাই মাঝেমধ্যে ভয়ঙ্কর পরিণতি নেয়।
তবে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠল জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের কুকুরযান পঞ্চায়েতের খালপাড়া সীমান্তে। শনিবার ভোরের দিকে এখানকার মানুষ এক অস্বাভাবিক শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। গুলি চলার আওয়াজ ভেসে আসে। সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের পরিস্থিতি ছিল আলাদা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তীব্র চিৎকার আর গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় অনেকেরই। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো কোনও সাধারণ পাচারচেষ্টা, কিন্তু পরবর্তী সময় জানা যায়, এক বাংলাদেশি যুবকের প্রাণ গেছে এই ঘটনায়। কে সে? কীভাবেই বা মৃত্যু হল? রহস্যের শুরু এখান থেকেই।
সূত্রের খবর, ওই বাংলাদেশি যুবক কাঁটাতারের বেড়া কেটে গরু পাচারের চেষ্টা করছিল। সীমান্তরক্ষীরা টের পেয়ে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিএসএফ-এর (BSF) দাবি, বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দুষ্কৃতীরা সরে আসেনি। উলটে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিল। বাধ্য হয়েই গুলি চালায় জওয়ানরা। তাতেই গুলিবিদ্ধ হয় এক যুবক, যার পরিচয় এখনও অজ্ঞাত।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে। সকাল ৭.২০ নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিএসএফ-এর দাবি, নিহত যুবক গরুপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন ছিল, কিন্তু গুলি চলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য চলছে, আর এই গুলি চলার ঘটনা তারই নতুন সংযোজন।
আরও পড়ুন: খুনের আগে স্বামীর ভয়ংকর ফাঁদ! ফলতায় গৃহবধূর সঙ্গে যা করল অভিযুক্ত, শুনলে শিউরে উঠবেন!
তবে এই ঘটনার পর সীমান্ত সুরক্ষা আরও কড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। একাধিক টহলদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে, যেন কোনওরকম পাচারচক্রের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত না হন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ ও স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কাঁটাতারের বেড়া কেটে সীমান্ত পেরনোর এই দুঃসাহস পাচারকারীরা কীভাবে দেখাচ্ছে? গুলি চালানো ছাড়া কি অন্য কোনও উপায় ছিল না? নাকি এটি পাচারচক্রেরই অংশ, যেখানে দুষ্কৃতীরা যেকোনও মূল্যে সীমান্ত লঙ্ঘন করতে চায়? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে, তবে জলপাইগুড়ি সীমান্তে যে আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।





