রাতের আঁধার কত রহস্য লুকিয়ে রাখে, তা অনেক সময় দিনের আলোতেও বোঝা যায় না। সম্পর্কের উত্থান-পতন, টানাপোড়েনের কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু কোনো সম্পর্ক এতটা ভয়ংকর মোড় নিতে পারে, তা হয়তো কল্পনারও অতীত। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ঘটনা গোটা রাজ্যে আলোড়ন তুলেছে। এক তরুণী, যার সংসার ছিল, স্বামী ছিল, স্বপ্ন ছিল— সে-ই কিনা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেল! আর তারপরই যা ঘটল, তা শোনার পর গা শিউরে উঠবে যে কারও।
চারিদিকে খুশির আবহ, উৎসবের মরশুম প্রায় দোরগোড়ায়। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই এক পরিবারের কান্না থামছে না। বাড়ির সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন, যদি মেয়েটি ফিরে আসে! নিখোঁজ হওয়ার দিন পরিবারের কেউ ভাবতেও পারেননি, এমন কিছু ঘটতে পারে। স্বামীর ডাকে সাড়া দিয়েছিল সে, হয়তো ভেবেছিল সম্পর্কের নতুন সূচনা হবে। কিন্তু সে-ই কি জানত, এই সফর হবে তার জীবনের শেষ সফর?
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। অভিযোগ, ওই দিন স্বামী তাকে ফোন করে দেখা করতে বলে। নতুন জামাকাপড় কিনে দেওয়ার নাম করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে সে। বাখরাহাট এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে এবং তারপর বাইকে করে নিয়ে যায় নির্জন এলাকায়। সন্দেহের কিছু ছিল না, কারণ সে ছিল তার স্বামী। কিন্তু এরপরই বদলে গেল পরিস্থিতি!
অভিযোগ, ওই রাতে ঠান্ডা মাথায় নিজের স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে অভিযুক্ত। তারপরই আচমকা শুরু হয় নির্যাতন। স্ত্রী যখন কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তাকে পুকুরের জলে ঠেলে ডুবিয়ে দেয় সে! স্ত্রীর নিথর দেহ গোপন করার জন্য সেটিকে লুকিয়ে রাখে খড়ের গাদার মধ্যে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, সেই রাতেই এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত স্বামী।
আরও পড়ুনঃ তিন ছাত্রের জবানবন্দিতে নতুন চমক! যাদবপুরের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে পুলিশের কড়া তদন্ত!
পরের দিন গভীর রাতে ফিরে আসে ঘটনাস্থলে। উদ্দেশ্য ছিল, সমস্ত প্রমাণ নষ্ট করা। পেট্রোল কিনে এনে স্ত্রীর দেহ রাখা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় সে, যাতে কেউ কোনোভাবেই শনাক্ত করতে না পারে! কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রাতভর মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সন্দেহ দানা বাঁধে। পরদিন সকালে স্থানীয়দের নজরে আসে জ্বলন্ত খড়ের গাদা, আর সেখান থেকেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য! দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে একে একে সামনে আসে বিভীষিকাময় সত্য, আর অভিযুক্ত গোলাম আলি শেখ-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, এটি শুধু দাম্পত্য কলহ নয়, বরং সুপরিকল্পিত খুন!





