আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৭ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ। এই নিয়ে যে রাজ্য সরকার বেশ উদ্বেগে রয়েছে, তা গতকাল, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতেই বোঝা গিয়েছিল। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। তবে আদালতের তরফে এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করা হল না অর্থাৎ নবান্ন অভিযান হতে কোনও বাধা নেই।
আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদ করে রাস্তায় নেমেছে সকল স্তরের মানুষ। দিকে দিকে চলছে আন্দোলন। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার সুবিচারের দাবী সকলের। এরই মধ্যে নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের তরফে। বলা হয়েছিল, ২৬ আগস্টের মধ্যে যদি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করেন, তাহলে ২৭ তারিখ নবান্ন অভিযান হবে। সেই অভিযান নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, এই মিছিলের কোনও পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়নি।
আজ, শুক্রবার হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মালার শুনানি ছিল। এদিন দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে রাজ্য সরকারের করা নবান্ন অভিযানের মামলায় কোনও হস্তক্ষেপই করল না হাইকোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চের তরফে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে কোনও বাধা নেই।
বলে রাখি, গতকাল, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানিতে নবান্ন অভিযান নিয়ে প্রসঙ্গ টানা হলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছিল, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে আটকানো যাবে না বা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও বল প্রয়োগ করা যাবে না। এদিন হাইকোর্টও সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ মেনেই মামলায় হস্তক্ষেপ করল না। অর্থাৎ এই অভিযান হচ্ছে।
কোথা থেকে শুরু হবে নবান্ন অভিযান?
কেন এই প্রতিবাদ মিছিল, কী দাবি, কোথা থেকে মিছিল শুরু হবে, এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন ছাত্র সমাজের সদস্য প্রবীর দাস, শুভঙ্কর হালদার ও সায়ন লাহিড়ীরা। আজ, শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে তারা জানান, নির্যাতিতার সুবিচার, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যাঁরা যুক্ত তাদের শাস্তি ও পুলিশমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবীতেই এই নবান্ন অভিযান।
আরও পড়ুনঃ এবার আরও বড় বিপাকে সন্দীপ ঘোষ! আর জি করের আর্থিক দুর্নীতি-সহ সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করবে সিবিআই, নির্দেশ হাইকোর্টের
ছাত্র সমাজের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২৭ তারিখ কলেজ স্কোয়ার ও সাঁতরাগাছি এই দুটি জায়গা থেকে শুরু হবে মিছিল। শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল হবে জানান তারা। এই অভিযানে কী বাংলার কোনও রাজনৈতিক নেতাদের দেখা যাবে? ছাত্র সমাজের তরফে জানানো হয়, “আমরা একটা অরাজনৈতিক মিছিল করছি। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা চাইলে আসতে পারেন, তবে তাঁদের বলব আপনারা রাজনৈতিক পরিচিতি ছেড়ে এই মিছিলে আসুন”।





