রাস্তা বন্ধ ও বিক্ষোভের জেরে একমাসেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ ৮৮ জন আইএসএফ কর্মী। আজ, বুধবার এই মামলার শুনানিতে একথা শুনে রীতিমতো বিস্মিত হলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। এদিন নওশাদ সিদ্দিকির গ্রেফতারি মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে”?
প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি ধর্মতলায় ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি ঘিরে বিক্ষোভের জেরে পুলিশের সঙ্গে আইএসএফ কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ বহু সমর্থককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরপর থেকেই এখনও পর্যন্ত জেলেই রয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকি এবং আইএসফের ওই কর্মী সমর্থকেরা। সম্প্রতি ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই বিষয়ে হাই কোর্টে একটি মামলা রুজু হয়। আজ, বুধবার সেই মামলারই শুনানি ছিল হাইকোর্টে। এদিন মামলার শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটি উঠেছিল। এদিন আদালতে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মহিলা-সহ ৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩২ দিনের বেশি সময় তাঁরা জেলে রয়েছেন”।
আইনজীবীর বক্তব্য শুনে বিস্মিত হন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে”? যদিও একই সঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। আইএসএফ নেতা তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী বলেন, “নেতার সংযত থাকা উচিত। তাঁর নেতৃত্বে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয় সে দিকেও তাঁর নজর দেওয়া উচিত ছিল”।
নওশাদ সিদ্দিকির গ্রেফতারি নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এসেছেন আইএসএফ সমর্থকরা। বামেদের তরফেও এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করা হয়। নওশাদ সিদ্দিকি দাবী করেন যে তাঁকে হেনস্থা করার জন্য এই গ্রেফতারি। আইএসএফের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে রাজ্য সরকার, এমনও দাবী করেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক।





