একটা বা দুটো নয়, গত তিন সপ্তাহে ছয় ছয়টি মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এর জেরে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তাহলে কী রাজ্য পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে আদালত?
১) বগটুই গণহত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তঃ গত মাসে রামপুরহাটের বগটুইয় ঘটে যাওয়া গণহত্যাকাণ্ডের মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এই ঘটনায় প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব জানান, “আমরা এই ঘটনার বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেছি। মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই মামলা সিবিআইকে দেওয়া প্রয়োজন। বিচারব্যবস্থা এবং সমাজের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য স্বচ্ছ তদন্ত করে সত্য সামনে নিয়ে আসা জরুরি। তাই এই মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে চায় আদালত”।
২) রামপুরহাটে তৃণমূল উপপ্রধান ভাদু শেখের খুনে সিবিআই তদন্তঃ তৃণমূল উপপ্রধান রামপুরহাটের তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। আদালত জানায়, “দুটি ঘটনা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। মূল অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হবে। দুটি ঘটনার একসঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন”।
৩) তপন কান্দু খুনে সিবিআই তদন্তঃ গত মাসেই খুন হন ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। তাঁর খুনের মামলার তদন্ত করতে চলতি মাসের শুরুতেই সিবিআইয়ের উপর তদন্তভার দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের কথায়, “অভিযোগকারী এবং মানুষের মনে আস্থা ফেরানোর জন্যই এই ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআই। এই তদন্ত ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে”।
৪) তপন কান্দু খুনের প্রত্যক্ষদর্শীর মৃত্যু মামলায় সিবিআইঃ তপন কান্দু খুনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন নিরঞ্জন বৈষ্ণব। কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
৫) এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলাঃ চলতি মাসেই এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। এই মামলায় একটি রিপোর্ট জমা করেছে সিবিআই। গ্রুপ ডি মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই।
৬) হাঁসখালি ধ’র্ষ’ণকাণ্ডঃ নদীয়ার হাঁসখালিতে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয়েছে নাবালিকার। এই ঘটনার তদন্তের দায়ভার দেওয়া হয় সিবিআইকে। আগামী ২রা মে’র মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়া কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।





