‘আগে আপনার স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যুরহস্য সামনে আনুন’, অধীর চৌধুরীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবী তৃণমূলের লাভলি মৈত্রের

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। গতকাল, মঙ্গলবার রাতে একটি টুইটে বহরমপুর সাংসদকে ট্যাগ করে লাভলি মৈত্র লেখেন, “আপনি আগে আপনার স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যুরহস্য সামনে নিয়ে আসুন। সিবিআই তদন্ত চাই…. আপনার মেয়ের মৃত্যুরহস্য উন্মোচন হোক। এক নিদারুণ নির্যাতনে…. কষ্টে, তিলে তিলে আপনার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন তার সত্যটা সামনে আসুক”।

গতকাল, মঙ্গলবার হাঁসখালির ধ’র্ষ’ণকাণ্ডে মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। এদিন এই ঘটনায় মমতা সরকারকে তো দেগে তিনি বলেন, “আমি জানতে পারলাম, নির্যাতিতার বাবা-মাকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাকে সত্যি প্রমাণিত করা জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ”। এদিন মৃত নাবালিকার পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়ে অধীর বলেন, “আমি নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকব। তাঁরা যত দূর পর্যন্ত লড়াই করতে চান, আমরা তাঁদের সঙ্গে থাকব”। এর পাশাপাশি তিনি এও জানান যে আইনি লড়াই লড়তে নির্যাতিতার পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, হাঁসখালি ধ’র্ষ’ণকান্দ নিয়ে মমতা সরকারকে আক্রমণ করেছেন বলেই সদ্য রাজনীতিতে আসা সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ শানিয়েছেন।

https://twitter.com/LovelyMoitra/status/1513989949686960129?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1513989949686960129%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.anandabazar.com%2Fwest-bengal%2Factress-mla-lovely-moitra-attacked-adhir-chowdhry-dgtl%2Fcid%2F1338586

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মৃত্যু হয় অধীর চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী অর্পিতা চৌধুরীর। তবে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদাই থাকতেন তারা। এর আগে ২০০৬ সালে অধীর ও অর্পিতার একমাত্র সন্তান শ্রেয়সী কলকাতার এক বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। তদন্তে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলেই জানানো হয়। এই ঘটনাগুলিরই সিবিআই তদন্তের দাবী তুললেন তৃণমূল বিধায়ক।

এই প্রসঙ্গে এক সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ রায় জানান, “বিধায়ক হয়েছেন কিন্তু এটা জানেন না, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা প্রশাসন সব আপনাদের হাতে, আপনার দিদিমণিকে বলুন তদন্ত করতে, কমিটি করতে, খোঁজ নিন, আদালতে যান। এখন আপনাদের দিদিমনির দানবী রূপ যত সামনে আসবে, আর ততই আপনারা দাঁত নখ বের করবেন, এ আর নতুন কী! দিদিমণিকে বলুন দীপক ঘোষের বইটা নিয়েও তদন্ত করতে, আদালতে যেতে, যদি সৎ সাহস থাকে”।

RELATED Articles