নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ফের বোমা হাইকোর্টের, এসএসসি-র ভুয়ো শিক্ষকদের অবিলম্বে ১২ শতাংশ সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে বেতন, কড়া নির্দেশ বিচারপতি বসুর

Calcutta High Court Order on Fake Teacher Recruitment Case: নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যে একের পর এক বিতর্ক, চর্চা চলছেই।  ২০১৬ সালের এসএসসি-র গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও সেই নির্দেশ আপাতত স্থগিত রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। এবার এরই মধ্যে ভুয়ো শিক্ষকদের জন্য এক কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court Order on Fake Teacher Recruitment Case)। অবিলম্বে ফেরাতে হবে ১২ শতাংশ সুদ-সহ বেতন।

কোথাও টাকা দিয়ে মেধা তালিকায় নাম তোলা বা আবার কোথাও পরীক্ষা না দিয়েই চাকরি, এসএসসি-তে এমন ঘটনার কথা শোনা গিয়েছে অনেক। পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পেয়েছিলেন সাত জন শিক্ষক। তাদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সব ভুয়ো শিক্ষকদের ১২ শতাংশ সুদ-সহ বেতন ফেরত দিতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Calcutta High Court Order on Fake Teacher Recruitment Case)। এবার সেই বেতন দ্রুত আদায় করতে তিন সদস্যের কমিটিকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি।

বলে রাখি, মুর্শিদাবাদের সুতির গোথা এ রহমান হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। সেই স্কুলে প্রধান শিক্ষকের ছেলের চাকরি পাওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছিল। বেআইনিভাবে প্রধান শিক্ষকের ছেলে চাকরি পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। সুপারিশপত্র ও নিয়োগপত্র জাল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই আরও বড় সত্যি সামনে আসে সিআইডি-র। রাজ্যের নানান স্কুল থেকে এমন আরও ৫ জন শিক্ষকের নাম উঠে আসে যারা পরীক্ষা না দিয়েই ভুয়ো নিয়োগপত্রের জেরে চাকরি পেয়েছিলেন। সেই ঘটনায় ওই ভুয়ো শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের নির্দেশের পাশাপাশি ১২ শতাংশ সুদ-সহ বেতন ফেরতের নির্দেশও দিয়েছিল আদালত (Calcutta High Court Order on Fake Teacher Recruitment Case)। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় এসএসসি পশ্চিমাঞ্চলের চেয়ারম্যানকেও। বর্তমানে জেলবন্দি তিনি।

এদিন আদালতে সেই বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি বসু। কেন এখন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। এও জানতে চান, ওই ব্যক্তি জেল থেকে ছাড়া পেলে কী ফের তাকে চেয়ারম্যান পদে বসাবে রাজ্য? আদালতের নির্দেশের পরও কেন তার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হল না, এই নিয়ে ক্ষোভ জারি করেন বিচারপতি (Calcutta High Court Order on Fake Teacher Recruitment Case)। আগামী ১২ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেদিন রাজ্যের থেকে এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব চেয়েছে হাইকোর্ট। 

RELATED Articles