এর আগেও অনুব্রত মণ্ডল যে ‘প্রভাবশালী’, সেই তত্ত্ব শুনানিতে উঠে এসেছে। এবার সেই তত্ত্বের কথা ফের বললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি। গরু পাচার মামলায় অনুব্রতর জামিনের আর্জি জানিয়ে আবেদন করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতেই আজ, শুক্রবার অনুব্রতকে ‘প্রভাবশালী’ বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি। এছাড়াও, সিবিআই আদালতের বিচারকের কাছে আসা হুমকি চিঠির কথাও এদিন উল্লেখ করেন তিনি। এদিন অনুব্রতর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল।
অনুব্রতর আইনজীবী জানান যে গরু পাচার মামলার মূল অভিযুক্ত এনামুল হক সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেয়েছেন, সতীশ কুমারও জামিন পেয়েছেন। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে না। এই প্রশ্ন রাখেন সিব্বল। তিনি জানান যে গত আগস্ট মাস থেকে জেল খাটছেন তিনি।
আইনজীবীর এই কথা শুনে বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, যাঁরা জামিন পেয়েছেন, তাঁদের থেকে মামলাকারী (অনুব্রত) অনেক বেশি প্রভাবশালী। এক বিচারককে হুমকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিচারপতি বলেন, “বিচারক নিজেই হুমকি পেলে সেটা আদালত কী করে তুচ্ছ করে দেখবে”?
সিবিআই জানায়, এই মামলার অন্যতম একজন সাক্ষী হলেন মনোজ সানা। তবে তিনি এই মুহূর্তে নিরুদ্দেশ। তদন্তের এই সময়ে সাক্ষীদের বক্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। একই সঙ্গে লালন শেখের মৃত্যু নিয়ে সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী।
হুমকি চিঠি প্রসঙ্গে আইনজীবী সিব্বল বলেন, “এগুলো কেস ডায়েরিতে লেখা হলেও প্রমাণিত নয়। প্রমাণ হলে জামিন দেবেন না। অনুব্রত মূল চক্রী নয়। এনামুল হক মূল চক্রী। এখনও পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি অনুব্রতর বিরুদ্ধে”। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বলে রাখি, আসানসোল সিবিআই আদালতে গরু পাচার মামলা চলাকালীন হুমকি চিঠি এসেছিল বিচারক রাজেশ চক্রবর্তীর কাছে। অনুব্রত মণ্ডলকে পেশ করার আগেই আসে সেই চিঠি। এতে লেখা ছিল, “অনুব্রতকে জামিন না দেওয়া হলে এনডিপিএস তথা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বিচারক ও তাঁর পরিবারকে”। সেই চিথির কথা বিচারপতি হাইকোর্টে জানিয়েছিলেন।





