ফের একবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈনকে তলব করল সিবিআই। আগামীকাল, বৃহস্পতিবারই তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত একাধিকের তথ্যের উপর ভিত্তি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে মণীশ জৈনকে।
গত এক বছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তোলপাড় হচ্ছে বাংলা। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী-সহ শিক্ষা দফতরের একাধিক প্রভাবশালী আধিকারিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি বর্তমানে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মণীশ জৈনকে তলব করা হয়েছে বলে খবর।
সিবিআই সূত্রে খবর, উপদেষ্টা কমিটির বেশ কিছু নথিপত্রে তদন্তকারীরা মণীশ জৈনের স্বাক্ষর পেয়েছিলেন। সে বিষয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাঁকে। জানতে চাওয়া হবে, কার নির্দেশে আসলে এসএসসি নিয়োগের উপদেষ্টা কমিটি কাজ করত। তাদের কাজের উপর কার নিয়ন্ত্রণ ছিল। মেধাতালিকায় স্বচ্ছতা ছিল না কেন, তাও জানতে চাওয়া হতে পারে শিক্ষাসচিবের কাছে। আগামীকালের জেরায় এই সংক্রান্ত তথ্য মিলবে বলেই আশাবাদী তদন্তকারীরা।
এর আগেও একবার শিক্ষাসচিবকে তলব করেছিল সিবিআই,। গত বছর সিবিআইয়ের ডাকে নিজাম প্যালেসে হাজিরাও দিয়েছিলেন মণীশ জৈন। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলেছিল জেরা। সেই সময় জানা যায়, নিয়োগ সংক্রান্ত নথিতে সাক্ষর রয়েছে তাঁর।
ইডি-র দাবী, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষের মাধ্যমেই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে মণীশ জৈনের যোগসাজশের কথা জানতে পেরেছে তারা। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিকাশ ভবনের ছ’তলার একটি ঘরে ভুয়ো চাকরিপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ হয়েছিল। আর সেই ইন্টারভিউ বন্দোবস্ত করেছিলেন মণীশ, এমনটাই উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে।
সিবিআই যেদিন আদালতে এই চার্জশিট জমা দেয়, সেদিন শুনানিতে তারা জানায়, কোন জেলার ভুয়ো চাকরিপ্রার্থীরা কোন সময়ে ইন্টারভিউ দেবেন, দূরের জেলার লোককে আগে ডেকে নেওয়া এসব নানান বিষয়ের ব্লুপ্রিন্ট বিকাশ ভবন থেকেই করা হয়েছিল। আর এতে নিবিড় যোগ ছিল মণীশ জৈন-সহ তাঁর কয়েকজন অধস্তন সরকারি আধিকারিকের।





