‘৮ মাস ধরে গুহার মধ্যে আছি, বেঁচে থাকতে আর রায় দেখতে পারব না’, আদালতে ‘৫ মিনিটের কথায়’ আক্ষেপের সুর ঝরল পার্থর গলায়

আদালতের কাছে ৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ চেয়েছিলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আদালত তাঁকে সেই সময় দিয়েছিল। এদিন ফের একবার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী দাবী করেন যে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন।

এদিন আদালতে পার্থ বলেন, “সবাই ছিল বোর্ডের মধ্যে। আমি বোর্ডের প্রধান ছিলাম। আমি নিয়োগকর্তা নই। একজন প্রশ্ন করতেন, আরেকজন খাতা দেখতেন। আমি মন্ত্রী ছিলাম। আমি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছি। মন্ত্রী হওয়া কি অপরাধ? আমি পড়াশোনায় ভালো। ভালো পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। বিরোধী দলনেতাও ছিলাম। থানায় আমার নামে কোনও মামলা নেই। জামিন পেলে পালিয়ে যাব না। চার্জশিটে এমন কোনও অভিযোগ আমার নামে নেই। সরকারি আইনজীবী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হয়ে কথা বলছেন”।

পালটা বিচারক পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বলেন, “কেস ডায়েরির কথা বলবেন না। কেস ডায়েরি দেখে যে কেউ লজ্জায় পড়ে যাবেন”।

এখানেই শেষ নয়। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “৮ মাস ধরে গুহার মধ্যে আছি। নিজেই অবাক হচ্ছি। আগে বাড়ি থেকে যখন বেরতাম আমাকে তখন অনেকে বলতেন, কোথায় যাচ্ছিস? পাথরে মাথা ঠুকতে যাচ্ছিস? পাথর দিয়েই প্রতিমা তৈরি হয়”।

এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপরও ক্ষোভ বর্ষণ করেন পার্থ। ইডি-সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে তিনি বলেন, “আমার ৭০ বছর বয়স। যেভাবে তদন্ত এগোচ্ছে, তাতে জীবদ্দশায় হয়তো রায় দেখে যেতে পারব না। একদিন সত্যি সামনে আসবেই”।

আদালত থেকে বেরোনোর সময় পার্থর গলায় শোনা যায়, “যারা নিজেরা কালি মেখে আছে। তারা আবার কী কালিমালিপ্ত করবে”? শেষেও পার্থর সেই একই কথা, “দলের সঙ্গে আছি। আছি। আছি”। এর পাশাপাশি তাঁর স্পষ্ট কথা, তিনি নিয়োগকর্তা নন। এই বলে নিজের দায়ও এড়িয়ে যান তিনি।

বলে রাখি, আজ, বৃহস্পতিবার আদালতে ঢোকার সময় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন পার্থ। সুজন চক্রবর্তী, শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির পাল্টা অভিযোগ তোলেন তিনি। আশ্চর্যজনকভাবে, তাঁর এই মন্তব্যের ঠিক ১৮ মিনিট আগেই টুইটে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঠিক এই তিনজনের কথাই উল্লেখ করেছিলেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। যা নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর