নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যে বিতর্কের অন্ত নেই। এরই মধ্যে যোগ হয়েছে বাম জমানায় চিরকুটের সুপারিশে চাকরি দেওয়ার বিতর্কও। এই নিয়ে বেশ আদাজল খেয়ে লেগেছে তৃণমূল। এবার নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে বামনেতা সুজন চক্রবর্তীর যোগ সামনে আনল তৃণমূল। তাঁর স্ত্রী মিলি চক্রবর্তীর চাকরি হয়েছিল সুপারিশের ভিত্তিতেই এবং ৩৪ বছর ধরে মোটা বেতন পেয়েছেন তিনি। এই নিয়ে নথি টুইট করল তৃণমূল।
আজ, বৃহস্পতিবার আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতে ঢোকার সময় নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায় বোমা ফাটান। তিনি দাবী করেন, সুজন চক্রবর্তী, দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার দাবীও তোলেন তিনি।
পার্থর কথায়, এই নিয়োগ দুর্নীতির শুরু বাম জমানা থেকেই। উল্লেখযোগ্যভাবে, পার্থর এই মন্তব্য করার ঠিক ১৮ মিনিট আগেই ঠিক এই একই দাবী করেছিলেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও। টুইট করে ওই তিনজনের নামই উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
আর এরপরই সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রীর চাকরি নিয়ে টুইট করল তৃণমূল। ১৯৮৭ সালের ১ আগস্ট দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে ইনস্ট্রুমেন্ট কিপার পদে যোগ দিয়েছিলেন সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রী মিলি চক্রবর্তী। সেই মর্মে কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সেই চিঠিই প্রমাণ হিসেবে টুইট করে তৃণমূল। অভিযোগ, এই পদের জন্য কোনও পরীক্ষা দেন নি মিলি চক্রবর্তী। শুধুমাত্র সুপারিশের জেরেই ৩৪ বছর ধরে মোটা বেতনের চাকরি করে গিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালে সেই পদ থেকে অবসর নেন মিলি ভট্টাচার্য। কুণাল ঘোষ সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, “হরপ্রসাদ সমাদ্দার তৎকালীন প্রিন্সিপাল ছিলেন। দেখা যাচ্ছে, তিনি সুজনদার স্ত্রীকে নিয়োগ দিচ্ছেন। তৃণমূল ব্যক্তি আক্রমণ পছন্দ করে না। তাহলে ২০১১ সাল থেকে বলা যেত। কিন্তু রুচির বাইরে হলেও বলতে হচ্ছে, যাঁরা কাদা ছুঁড়ছে, তাঁরা কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুঁড়ছে”।
অন্যদিকে, পার্থর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন মন্তব্য করছেন পার্থ। তবে তৃণমূলের এই টুইট নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি তাঁকে।





