গত বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কোটি কোটি টাকা। এবার তৃণমূলের আরও এক বিধায়কের বাড়ি তল্লাশি চালয়ে ২৪ লক্ষ টাকা ও বিপুল পরিমাণ গয়না উদ্ধার করল সিবিআই।
কোন বিধায়কের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল টাকা?
আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি। এই তল্লাশিতে বিধায়কের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
স্থানীয় এক বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে টাকা গোনার মেশিন এনে গোনা হয় টাকা। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ২৪ লক্ষ ২০ হাজার। এরপর বিধায়কের স্ত্রীর থেকে আরও ৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। বিধায়কের স্ত্রীর দাবী, সংসার খরচের জন্য ওই টাকা ছিল তাঁর কাছে। বিধায়কের বাড়ি থেকে ১২ ভরি গয়নাও উদ্ধার করেছে সিবিআই। বিধায়কের দাবী, ওই গয়না তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের।
কেন এই তল্লাশি?
সিবিআইয়ের দাবী, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ভিত্তিতেই তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। সার্চ ওয়ারেন্ট দেখিয়েই চলছে তল্লাশি। মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের।
কী দাবী বিধায়কের?
জাফিকুল ইসলামের দাবী, তিনি কোনও নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। কোনওদিন ছিলেনও না। তিনি এও জানান, সিবিআই অফিসাররা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবরকমভাবে সাহায্য করবেন। টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বিধায়কের দাবী, “জায়গা বিক্রি করা হয়েছে। তার দলিল সিবিআইকে দেখানো হয়েছে। আমি আমার স্ত্রী ও মেয়েকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে বলেছি”। অন্যদিকে, সিবিআই আধিকারিকদের পাল্টা দাবী, দু-লক্ষ টাকার বেশি কখনওই বাড়িতে রাখা যায় না।
প্রসঙ্গত, এর আগে গরু পাচার মামলায় নাম জড়িয়েছিল জাফিকুল ইসলামের। সেই সময় সিবিআইম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এনআইএ তদন্তকারীদেরও জেরার মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। তবে এবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই।






