ভোট পরবর্তী হিংসার মামলার তদন্ত হাটে পাওয়ার পরই অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে সিবিআই। তদন্তের জন্য সমস্ত রকমের ছক ইতিমধ্যেই কষে ফেলা হয়েছে। এবার এই মামলা সম্পর্কে নানান তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হল রাজ্য প্রশাসনকে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই চিঠিতে জাবতে চাওয়া হয়েছে ভোট পরবর্তী ঘটনায় ঠিক কতজন খুন হয়েছেন। এর জেরে কতগুলি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়াও ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির মতো মহিলাজনিত কতগুলি অপরাধ ঘটেছে, সেসবের তথ্যও জানতে চেয়েছে সিবিআই।
আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআইয়ের ৪টি বিশেষ দল, নিযুক্ত ২৪ আধিকারিক
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন কতটা তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে, কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এসব বিশদে জানতে চেয়েছে সিবিআই। এই ঘটনায় কতগুলি গ্রেফতারি হয়েছে, সেই মামলা কতদূর এগিয়েছে, সেই তথ্যও চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু তাই-ই নয়, নানান হিংসার ঘটনার জেরে যে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, এর কপিও চেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগের ভিত্তিতে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা এখনও জেলে নাকি মুক্তি পেয়েছে, খুঁটিনাটি সমস্ত বিষয় জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সিবিআই। রাজ্যকে যত দ্রুত সম্ভব এর উত্তর দিতেও বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুলিশের দেওয়া এই রিপোর্টের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট মিলিয়ে দেখবে সিবিআই। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, খুন ও ধর্ষণ মিলিয়ে অন্ততপক্ষে ৫৮টি অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের মামলা দায়ের হয়েছিল কী না, কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সবদিক খতিয়ে দেখে মামলা রুজু করবে সিবিআই।
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্তের জন্য সিবিআইয়ের চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই প্রত্যেক দলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন করে জয়েন্ট ডিরেক্টর পদ মর্যাদার আধিকারিক। আর এই দলগুলির উপর তত্ত্বাবধানে থাকবেন একজন অতিরিক্ত ডিরেক্টর পদ মর্যাদার আধিকারিক। এই চার দলে মোট ২৪ জন আধিকারিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সুমন বালা সাহু, পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র, রণবীর কুমার- এই তিন সদস্যকে নিয়ে গঠন করা হবে বিশেষ তদন্তকারী দল। লখনউ, পাটনা, দিল্লি ও দেহরাদুনের সিবিআই অফিসারদের নিয়ে গড়া হচ্ছে বিশেষ দল। চারটে টিমে আট জন করে আধিকারিক থাকবেন।
তবে এই তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে আসায় নিজেদের জয় দেখছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, “এ বার ন্যায় পাবেন দুর্গতরা। আমরা আশা করব সরকার এর থেকে শিক্ষা নেবে। আমরা যেটা চেয়েছিলাম, সেটাই হয়েছে”। কিন্তু অন্যদিকে হাইকোর্টের এই রায়ে মোটেই খুশি নয় রাজ্যের শাসক দল। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। যেখানে কয়েকদিন আগেই সিবিআইকে আদালত ‘খাঁচাবন্দি তোতাপাখি’ বলে উল্লেখ করেছিল।





