এর আগে গত মার্চ মাসে তাঁকে জেরা করেছিলেন সিবিআই (CBI)। কিন্তু তাঁর দেওয়া তথ্যে সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই কারণে ফের কয়লা পাচারকাণ্ডে (coal scam case) তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Rujira Banerjee) জেরা করার জন্য ‘শান্তিনিকেতন’-এ পৌঁছল সিবিআইয়ের টিম।
আজ, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এদিকে অভিষেক এখন কলকাতায় নেই। তিনি রয়েছেন ত্রিপুরাতে। এরই মাঝে কয়লা পাচার কাণ্ডে তাঁর স্ত্রী রুজিরাকে জেরা করবে সিবিআই, এমনটাই সূত্রের খবর। শুধু তাই-ই নয়, লন্ডনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নানান তথ্যও রুজিরার থেকে জানতে চায় সিবিআই।
এর আগে অভিষেক নিজে দু’বার দিল্লিতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছে হাজিরা দিয়েছেন এই কয়লা পাচার কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তবে এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিষেক বা তাঁর স্ত্রী রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তা কলকাতাতেই করতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। এই কয়লা পাচার কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৩০০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে বলে খবর।
অভিযোগ, এই কয়লা পাচারের লাভের অংশ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ হাওয়ালা মারফত সেই মোটা টাকা বিদেশের ব্যাঙ্কে চলে যাচ্ছে। কয়লা পাচার মামলায় এই টাকা বিদেশ যাওয়ার তথ্য মিলেছে। এমনই একটা যোগসূত্রেই রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে সিবিআই।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যে যেসব তদন্ত চলছে তার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কোথাও যদি মনে হয় এই তদন্তকে কেউ রাজনৈতিক কারণে প্রভাবিত করছেন তার জন্য আদালতের দরজা খোলা রয়েছে। লুঠপাট যে হয়েছে তা মানুষ জানে। এতে কারা জড়িত, কারা জড়িত নয় তা তদন্ত সাপেক্ষ”।
কয়লা পাচারকাণ্ডে সিবিআইয়ের তদন্তকে চক্রান্ত বলে মনে করছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “এটা একটা চক্রান্ত। বিধানসভা নির্বাচনেও দেখেছি কীভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। আবার অভিষেক সক্রিয় হয়ে উঠছেন। এসবে ভয় পেয়ে অভিষেক ও তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব করে কিছু কাজ হবে না। অভিষেকও আইনি লড়াই করছেন”।





