মুখবন্ধ খামে আজই কলকাতা হাইকোর্টে জমা পড়বে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’, জানাল সিবিআই

রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলার তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা পড়বে কলকাতা হাইকোর্টে। আজ, সোমবারই মুখবন্ধ খামে জমা পড়বে সেই রিপোর্ট। তদন্ত শুরু করার ৬ সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট জমা করছে সিবিআই।

উল্লেখ্য, গত ২২শে সেপ্টেম্বরই এই স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দেয় সিবিআই। নিজাম প্যালেসে হয় বৈঠক। দিল্লি থেকে কলকাতায় আসেন জয়েন্ট ডিরেক্টররা। সূত্রের খবর, এই রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে যে কতগুলি এফআইআর হল, কতগুলি চার্জশিট জমা পড়েছে, কতজন গ্রেফতার হয়েছে, এসব তথ্যই।

তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, আরও কী কী করা প্রয়োজন, এসব বিষয় নিয়েই তদন্তকারী আধিকারিকদের পরামর্শ দেওয়া হবে। ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্তে মোট ৮৪ জন তদন্তকারী আধিকারিক রয়েছেন। রয়েছেন ইন্সপেক্টর ও ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। এছাড়াও রয়েছেন ২৫জন কর্তা যারা ডিআইজি, জয়েন্ট ডিরেক্টর, এসপি মর্যাদার পদাধিকারী আধিকারিক।

প্রত্যেক জোনের টিমে রয়েছেন ২১ জন করে তদন্তকারী অফিসার বা আইও। রাজ্যে ৪জন জুগ্ম অধিকর্তা ইতিমধ্যেই পৌঁছেছেন। এছাড়াও রয়েছেন বেশিরভাগ ডিআইজি ও এসপি। গত ২৭শে আগস্ট রাজ্যে ১৫ টি খুন এবং ৬ টি ধর্ষণের মামলায় মোট ১১টি এফআইআর দায়ের করেছিল সিবিআই। খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি অস্ত্র রাখা, অপহরণ, অনুপ্রবেশের মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরগুলি দায়ের করা হয়েছিল। গত শনিবার দায়ের করা হয় আরও ১০টি এফআইআর।

প্রসঙ্গত, গত ১০ই সেপ্টেম্বর ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস মামলায় রাজ্যে চতুর্থ চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। কাঁকরতলার বিজেপি কর্মী মিঠুন বাগদি খুনে চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এরপর ৩০শে সেপ্টেম্বর কাঁকুরগাছির বিজেপি কর্মী অভিজিত্ সরকারের মৃত্যুতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। এই নিয়ে মোট ৬টি চার্জশিট জমা পড়ে। এখনও পর্যন্ত ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় মোট ৩৭ টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকদেরও এবার তলব করেছে সিবিআই। তাদের ধাপে ধাপে প্রত্যেক মামলার জন্য তলব করা হবে। তাদের মধ্যে কে কোন মামলার তদন্ত করেছেন, তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের। যেমন নানান মামলায় কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, কাদের গ্রেফতার করা হয়নি, কেন গ্রেফতার করা হয়নি, রাজ্য পুলিশের হাতে কী কী তথ্য এসেছিল, এসব নানান তথ্য রাজ্যের তদন্তকারী আধিকারিকদের থেকে জানতে চায় সিবিআই।

RELATED Articles