বাঙালি পরিচালক সুদীপ্ত সেনের ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের অন্ত নেই। এরই মধ্যে গতকাল, সোমবার বাংলায় এই ছবি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গই প্রথম রাজ্য যেখানে এই ছবি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মমতার এমন নির্দেশের পর আক্রমণ শানানো শুরু করেছে বিজেপি। এই নিয়ে মুখে খুললেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর।
এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অনুরাগ ঠাকুর বলেছেন, “আমি তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম আর কংগ্রেসকে জিজ্ঞেস করতে চাই ওরা কেন আইএসআইএসের মতো সংগঠনের সঙ্গে রয়েছেন? যদি তাঁরা এই সিনেমা নিষিদ্ধ করেন, তবে এটা স্পষ্ট হবে যে ওরা আইসিসের সঙ্গে একাত্ম”।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যে পাল্টা মন্তব্য করেন তৃণমূল মুখপাত্র তাপস রায়। তিনি বলেন, “তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হলেন সরকারের মুখপাত্র। তিনি যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে প্রশাসনিক শালীনতাবোধ বলে ওদের কাছে কিছু নেই। ওদের সবটাই রাজনীতি”।
তাপস রায় আরও বলেন, “এই মন্ত্রীই দিল্লি ভোটের সময়ে জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, গোলি মারো শালো কো! তাঁর কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কী প্রত্যাশা করা যায়? দেশে বিভাজনের বিষ ছড়ানোর জন্যই এঁদের পুষে রেখেছেন নরেন্দ্র মোদী”।
গতকাল, সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিয়ে মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই কেরালা স্টোরি, কাশ্মীর ফাইলস কিছু মানুষকে অসম্মান করার জন্য়ই তৈরি হয়। আমি সিপিআইএমকে সমর্থন করছি না। আমি মানুষের কথা বলছি। আমি সিপিএম পার্টির কথা বলছি না। কারণ, তাঁরা বিজেপির সঙ্গে কাজ করছে। এটার সমালোচনা তো তাঁদেরই করা উচিত। কিন্তু তাঁরা তো বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। আমি সে রাজ্য়ের মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, তাঁর পার্টি বিজেপিকে সাহায্য করছে। আর সেই কারণেই কেরালা স্টোরি তৈরি হচ্ছে বিকৃত তথ্য নিয়ে”।
এদিনের এই বৈঠকে মমতা খোঁজ নেন রাজ্যের কোন কোন হলে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ চলছে। এর একটা তালিকা তৈরির জন্য মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেন তিনি। এরপরই এই ছবিকে বাংলায় নিষিদ্ধ করার কথা বলেন। মমতার কথায়, “এখানে কোনও ঘৃণা চলবে না। কোনও রাজনৈতিক, জাতিগত ঘৃণাকে আমরা প্রোমোট করব না। কোর্ট যদি বলে তবে দেখা যাবে”।
প্রসঙ্গত, গত বছর মুক্তি পায় এই ছবি টিজার। আর তখন থেকেই এই ছবিকে ঘিরে চর্চা শুরু। কিছুদিন আগে ছবির ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। আর এরপরই এই ছবিকে ঘিরে আরও উত্তেজনা। গোটা কেরল জুড়ে যেন ক্ষোভের সঞ্চার। ২০১৬ সালে কেরলে ২১ জন মেয়ের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সুদীপ্ত সেনের এই ছবি। ওই ২১ জন মেয়ে যোগ দেয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসআই-এর প্রশিক্ষণ শিবিরে।
কিন্তু কেন হঠাৎ তারা এই নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগ দিল? কীভাবেই বা তারা সিরিয়া ও আফগানিস্তানের এই জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ শিবিরে পৌঁছল? কেনই বা ধর্মান্তকরণে রাজি হল ওই মেয়েরা কারণ তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল হিন্দু আর কিছু খ্রিষ্টান। এই সমস্ত ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র মাধ্যমে। আর এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার