নতুন সরকার শপথের আগেই বাংলার জন্য ২৭০০ কোটি টাকার জল জীবন মিশন প্রকল্পে বড় ঘোষণা বিজেপির!

পশ্চিমবঙ্গে আগামীকাল অর্থাৎ ৯ মে, নতুন সরকার গঠনের আগেই বড় ঘোষণা কেন্দ্রের। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জল জীবন মিশন প্রকল্পের বকেয়া বরাদ্দ এবার রাজ্যের হাতে পৌঁছাতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গকে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি বারবার তুলে ধরেছিল, রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেই বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র।

সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের সচিব। সেই বৈঠকেই জল জীবন মিশন প্রকল্পের বকেয়া বরাদ্দ এবং ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। কোথায় কত বাড়িতে জলের সংযোগ পৌঁছেছে, কোথায় এখনও কাজ বাকি রয়েছে এবং মোট কত টাকা বকেয়া রয়েছে সব তথ্যই পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকে।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে খুব দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক বা মৌ স্বাক্ষরিত হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই রাজ্যের হাতে ২৭০০ কোটি টাকার বরাদ্দ পৌঁছে যাবে বলে খবর। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের টাকা আটকে থাকায় রাজ্যের বহু এলাকায় পানীয় জলের কাজ থমকে ছিল। বিশেষ করে গ্রামের বহু অঞ্চলে এখনও বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ পৌঁছায়নি। এবার সেই সমস্ত এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ ভোট প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক সভা থেকে ‘পিএম টু সিএম’ একযোগে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। বিজেপির নির্বাচনী প্রচারেও বারবার উঠে এসেছিল জল জীবন মিশন প্রকল্পের কথা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও গ্রামীণ এলাকার মানুষকে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব।

তবে এই প্রকল্প ঘিরে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাতও কম ছিল না। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের ‘ব্র্যান্ডিং’ বা নামকরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশ মানা হচ্ছে না। কোথাও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়। পরে অবশ্য রাজ্য সেই নিয়ম মেনে নেয় বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে দাবি করা হয়। কিন্তু তারপরেও দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ ছিল।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যেও জল জীবন মিশনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেই কারণেই কেন্দ্র আগেই এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বরাদ্দ আটকে থাকায় রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগও উঠেছিল। তৃণমূল সরকার দাবি করেছিল, রাজনৈতিক কারণেই বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্র সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিল, নিয়ম মেনেই বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ বিধানসভা থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি, বন্ধ স্পিকার-সহ চার গুরুত্বপূর্ণ ঘর! নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার আগেই ভেঙে গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা

এবার নতুন সরকার গঠনের আগেই কেন্দ্রের এই বরাদ্দ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে কেন্দ্র। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে যেতে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হওয়ার আশায় এখন তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর