২০ টাকায় চিকেন বিরিয়ানি! মিড ডে মিলের রান্না করেন, রয়েছে মুদির দোকান, তাও বাচ্চাদের কথা ভেবেই কম টাকায় বিরিয়ানি বিক্রি পাড়ার কাকিমার

আজকালকার দিনে একটু বেশি আয়ের আশা কে না করে না! ঘরে বসে না থেকে সকলেই এখন অল্প হলেও কোনও রোজগারের পথ ঠিকই খুঁজছেন। পাড়ার মা-কাকিমারাও আজকাল শুধু সংসার নিয়েই পড়ে থাকেন না। নিজের সংসার, সন্তানকে একটু ভালো জীবন দেওয়ার জন্য তারাও প্রাণপাত করছেন সংসারের বাইরেও। যে হারে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তাতে সংসারে একজনের রোজগারে কুলিয়ে ওঠা মুশকিল।

বর্তমানে খাবারের দোকান দেওয়ার ট্রেন্ড বেশ উঠেছে। অনেকেই রাস্তার ধারে হোক বা একটা ছোট্ট দোকান করে হলেও বা ঠেলাগাড়িতে খাবারের দোকান খুলছেন। আর সেই দোকানের বিক্রিও সেরকম। খাবারের দোকানের ব্যবসা বোধ হয় কখনও খারাপ যায় না। আর এই খাবারের দোকানের মধ্যে বিরিয়ানির দোকান তো অন্যতম।

বর্তমানে ফুড ভ্লগারদের দৌলতে একাধিক বিরিয়ানির দোকান কিন্তু সাফল্যের শীর্ষে। সে মধ্যমগ্রামের উজ্জ্বলদাঁড় বিরিয়ানি হোক, বা একান্ত আপনের বিরিয়ানিই হোক, আমেরিকান দাদার বিরিয়ানি হোক বা বাচ্চার বিরিয়ানি। সব দোকানের বিরিয়ানিই কিন্তু এক সে বরকর এক। মোটামুটি কম দামের মধ্যেই পাওয়া যায় এই বিরিয়ানি। তবে জানা গেল মাত্র ২০ টাকার চিকেন বিরিয়ানির কথা।

শ্যামনগরের মণ্ডলপাড়ার মুন্সিপাড়ায় সোমা কাকিমার বিরিয়ানি এখন সবাই এক ডাকে চেনে। ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৫টা বাজতে না বাজতেই তাঁর দোকানের সামনে পাড়ার কুচোকাচাদের ভিড় জড়ো হয়ে যায় বলা যায়। আর হবে নাই বা কেন, তাদের জন্যই তো এত কম টাকায় বিরিয়ানি দিচ্ছেন সোমাদেবী তাও আবার চিকেন দিয়ে।

জানা গিয়েছে, সোমাদেবী মিড ডে মিলের রান্নার কাজ করেন। বাড়িতেই একটা ছোট্ট মুদির দোকান রয়েছে তাঁর। আর দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যায় বিরিয়ানির তোড়জোড়। একা হাতেই সব রেডি করে দমে বসান বিরিয়ানি। তারপর ঠিক ৫টা বাজতেই একের পর এক খদ্দেরে তাঁর দোকানের সামনে ভিড়। এক প্লেট বিরিয়ানিতে থাকে ১ পিস আলু, ২ পিস চিকেন। চিকেনের সাইজ একটু ছোটো তাই তা বিরিয়ানির সাথে দমে যায় না। বলা যায় আলু বিরিয়ানির সঙ্গে ২ পিস চিকেন কষা তাও আবার মাত্র ২০ টাকায়। এমনটাও সম্ভব, ভাবা যায়!

সোমাদেবী জানান, ছোটো মুদির দোকানই ছিল তাঁর। পাড়ার বাচ্চারাই তাঁর কাছে আবদার করে কোনও খাবারের দোকান করার জন্য। সেই থেকেই এই দোকানের পরিকল্পনা সোমাদেবীর। পাড়ার বাচ্চাগুলো যাতে অল্প টাকাতেই একটু পেট ভরে খেতে পারে, সেই কারণে অল্প টাকায় খাবার বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রথমে তিনি শুরু করেছিলেন ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন দিয়ে। আর এখন শুরু করেছেন বিরিয়ানি যা তুমুল হিট। নিমেষে শেষ হয়ে যায় এক হাঁড়ি। এখন তো আবার বিরিয়ানির সঙ্গে হান্ডি মটন বিক্রিও শুরু হয়েছে। আর সেটাও সুপারহিট। একপ্লেট বিরিয়ানির সঙ্গে ২ পিস মটন দিয়ে ৫০-৫৫ টাকা, এমনটা সম্ভব করে তুলেছেন মণ্ডলপাড়ার সোমাদেবী।

একাহাতে সংসার সামলে, মিড ডে মিলের রান্না করে, মুদির দোকান সামলে আবার বিরিয়ানি রান্না করে বিক্রি। পাড়ার ছোটো ছোটো বাচ্চাদের আবদার রেখে দিব্যি চালাচ্ছেন দোকান। অল্প থেকেই তো আরও বড় কিছু স্বপ্ন দেখে মানুষ। আপনিও একবার যাবেন নাকি সোমাদেবীর ২০ টাকার চিকেন বিরিয়ানির স্বাদ নিতে?  

আরও অন্যান্য খবর