মাঝেমধ্যেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসায় গাফিলতি নিয়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন ঘটনা নয়। তবে এবার এক চিকিৎসকই হয়ে উঠলেন এক পরিবারের কাছে স্বয়ং ঈশ্বর। একরত্তি শিশুর প্রাণদায়ক হয়ে উঠলেন শিশু চিকিৎসক ডঃ প্রবীর ভৌমিক।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মেচেদা এলাকায়। সেখানে দিনকয়েক আগে জন্ম হয় এক শিশুর। কিন্তু জন্মের পর থেকেই শিশুইর শরীরে বাড়তে থাকে বিলিরুবিনের পরিমাণ। তিনদিনের মধ্যেই শিশুর শরীরে হু হু করে বেড়ে যায় বিলিরুবিন। এর ফলে ওই শিশুকে নিয়ে যাওয়া হয় কোলাঘাটের বেসরকারি নার্সিং হোমে। সেখানকার চিকিৎসক পরামর্শ দেন যে দ্রুত রক্ত পরিবর্তন করতে হবে ওই শিশুর।
তখন রাত ২টো। গভীর রাতেই রক্ত পরিবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কিন্তু এত দ্রুত রক্ত মিলবে কীভাবে। এর ফলে চিকিৎসক নিজেই রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিশুর শরীরের রক্ত বের করে নতুন রক্ত শিশুর শরীরে প্রবেশ করানো হয়।
কী বলছেন ওই চিকিৎসক?
ওই চিকিৎসক ডঃ প্রবীর ভৌমিক এই ঘটনায় বলেন, “শিশুর শরীরে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। রক্ত পরিবর্তন না করলে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়ত। গভীর রাতে রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরিবার সমস্যায় পড়ত। তাছাড়া রক্ত সংগ্রহ করার জন্যে সময় লাগতো। তাই নিজেই রক্ত দিয়েছি”।
চিকিৎসকের কাছে চিরকৃতজ্ঞ ওই শিশুর পরিবার। তারা জানান, “ডাক্তারবাবুই আমাদের কাছে ভগবান। উনি না থাকলে সন্তানকে বাঁচাতে পারতাম না”।





