আত্মনির্ভর ভারতের কথা মাস দুয়েক আগেই বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার সেই আত্মনির্ভর ভারতকে বৈতরণী করে বিজেপি পার করতে চাইছে ২০২১ এর নির্বাচন। সেই উপলক্ষে অভিনব প্রচার কৌশল এর শরণাপন্ন হয়েছে বিজেপি। আত্মনির্ভর ভারতকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদী চিঠি লিখেছেন এবং সেই চিঠি রাজ্যের প্রতিটি মানুষের কাছে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি ।
আজ হাওড়া থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার যদিও বিজেপি সমস্ত সাংসদ নিজের নিজের জেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি। একদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের খতিয়ান যেমন রয়েছে এই চিঠিতে অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব ভোটারদের কাছে গিয়ে এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরছেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতাকেও।
২০২১কে পাখির চোখ করে বাংলাতে এই চিঠি দেওয়ার কৌশল বিজেপি সারা দেশেই দেওয়া শুরু করেছে।সারাদেশে বিজেপি এই কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছে। তবে বাংলায় ২০২১-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার অভিযানের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিল গেরুয়া শিবির। একইসঙ্গে কর্মীদের মাঠে নামিয়ে ভোটের আগে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যও।
এই দিনে, মধ্য হাওড়ার পঞ্চাননতলায় দেশপ্রাণ শাসমল রোডে কয়েকটি বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি তুলে দেন দিলীপ ঘোষ। কয়েকটি বাড়িতে মহিলারা অভিযোগ করেন, লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে তাঁরা রেশন পাচ্ছেন না। এমনকী আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ত্রিপল দেওয়া হয়নি। বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। অন্যদিকে শুধু হাওড়া না রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতেও একই কর্মসূচি পালন করতে শুরু করেছে বিজেপি। হুগলির চন্দননগর, চুঁচুড়া, বাঁশবেড়িয়া অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি যান সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। বোলপুরে সম্পর্ক অভিযানে অংশ নেন সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, বাঁকুড়ায় ডা. সুভাষ সরকার, মালদহ উত্তরে খগেন মুর্মু, কোচবিহারে নিশীথ প্রামাণিক-সহ সমস্ত সাংসদরা।
এদিন সম্পর্ক যাত্রা সূচনার পর বিজেপি রাজ্য দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল তোষণের রাজনীতি করছে। জাল ভোটারদের দিয়ে ভোট করার রাজনীতি। সীমান্তে বেড়া দিতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। রাজনীতির স্বার্থে দেশের সুরক্ষাকে বিক্রি করছে তৃণমূল সরকার। সীমান্তে যদি বেড়া দেওয়া হয়, তাহলে ওপার থেকে ভোটাররা আসতে পারবে না। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী ভোটে জিততে পারবেন না’, মন্তব্য দিলীপবাবুর। এছাড়াও ফের রাজ্যে নতুন করে লকডাউন করার পক্ষে সওয়াল করেন দিলীপবাবু। বলেন, ‘লকডাউন করতে হবে না হলে বাঁচার রাস্তা নেই।’





