করোনা সংক্রমন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর ফলে অনেক মানুষেরই ব্যবসায় দারুন ক্ষতি হচ্ছে। লকডাউনের জেরে এবার ক্ষতির মুখে ফুল চাষিরা। তাই ফুল বিক্রিতে অনুমতি দিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী পরশু থেকে ফুল চাষিরা কলকাতার বাজারে ফুল বিক্রির জন্য আস্তে পারবেন। প্রশাসন তাদের কোনোভাবে আটকাতে পারবে না। শহরে এসে তাঁরা যেন পরিবহণ পান তাও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিড়ি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও লকডাউন শিথিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কিছুদিন আগেই দুধ নষ্ট হচ্ছিল বলে মিষ্টির দোকান আংশিক সময়ের জন্য খোলার অনুমতি দিয়েছিলেন রাজ্য সরকার । এবার ফুল চাষিদের কথা ভেবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না অনেক ফুল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, কলকাতার ফুল বাজার অর্থাৎ জগন্নাথ ঘাটে ফুল আসে হাওড়ার বাগনান, ফুলেশ্বর থেকে। এরপর পাইকারি দরে সেখান থেকে ফুল নিয়ে যান হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনার কয়েক হাজার খুচরো বিক্রেতারা। তাঁদের প্রশ্ন, এই খুচরো ব্যবসায়ীরা পরিবহন ছাড়া জেলা থেকে কী ভাবে কলকাতায় পৌঁছবেন?
হুগলির শেওড়াফুলির ফুল বিক্রেতা নিত্যানন্দ পাইন বলেন, “যাঁরা কয়েকশো কিলো ফুল নিয়ে পাইকারি বাজারে বেচতে আসবেন তাঁদের পক্ষে গাড়ি ভাড়া করা সম্ভব। কিন্তু আমরা কী করব? ফুল তো একবেলাতেই শুকিয়ে যাবে চাল-ডাল-তেল-নুন এর মত তো মজুত করতে পারবো না।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিড়ি শ্রমিকদের জন্যও কিছু ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে সাত জনের বেশি লোক একসাথে বসে বিড়ি বাঁধতে পারবে না। তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তাঁর কথায়, “এমনি গ্রামের দিকে পঞ্চাশ জন মিলে বিড়ি বাঁধেন। এখন সেটা করা যাবে না। সাতজন বসুন। সামাজিক দূরত্ব মেনে কাজ করুন।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিড়ি বাঁধার পর ঘর থেকে এজেন্ট গিয়ে তা সংগ্রহ করে এনে ডিস্ট্রিবিউটরকে দেবেন। এভাবে বিড়ি ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমবে।





