নিজের চালু করা লকডাউন ভাঙছে কেন্দ্র, জন-ধনের জন্য ব্যাঙ্কে লম্বা লাইন: অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

লকডাউনের মধ্যেও চলছে রাজনীতি। কেন্দ্র নিজে লকডাউন করে আবার নিজেরাই ভাঙাচ্ছে। এদিন নরেন্দ্র মোদী সরকারের তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার জন-ধন প্রকল্পের জন্য প্রচুর লোক লাইন দিচ্ছে ফলে লকডাউনের কোনো মানেই থাকছে না। আমি মুখ্যসচিবকে এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি।” উজ্জ্বলা প্রকল্পে গরিব পরিবারকে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাসের বিতরণের ক্ষেত্রেও মানুষের ভিড় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ঘোষণা মতো জন-ধন প্রকল্পে যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে তাঁদের এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। দেশে লকডাউন ঘোষণার পরে পরেই দরিদ্র মানুষের জন্য ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্র। সেই ঘোষণার সময়েই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, দেশে জন-ধন প্রকল্পের আওতায় অ্যাকাউন্টের মালিক ২০ কোটি মহিলা। যার জন্য এখন মহিলাদের বিশাল লাইন পড়ছে।

এই অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে ব্যাঙ্কে ভিড় না হয় সেই নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্র। এর জন্য সব ব্যাঙ্ককে বিশেষ নির্দেশও পাঠায় ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)। সেখানে বলা হয়েছে, ৩রা এপ্রিল থেকে ৯ই এপ্রিল এই সাত দিনে ধাপে ধাপে জন-ধন প্রকল্পের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া হবে। এই নির্দেশের সময়ে আইবিএ জানায়, এমনিতে একই দিনে সব অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া যায়। কিন্তু জমা দেওয়া হবে না নইলে হুড়োহুড়ি লেগে যেতে পারে। আর টাকা তোলার ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের হুড়োহুড়ি করার দরকার নেই। কারণ, এই টাকা তাদের অ্যাকাউন্টেই থেকে যাবে। টাকা জমা পড়ার পরে যে কোনও দিন তা তোলা যাবে। পাশাপাশি জানানো হয়, টাকা তোলার জন্য ব্যাঙ্কের শাখায় ভিড় করার দরকার নেই। যে কোনও এটিএম, ব্যাঙ্ক মিত্র কিংবা কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টে গিয়ে টাকা তোলা যাবে।

এদিন রেশনে চাল, ডাল বিলি নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। মমতা বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল রেশনের চাল নিয়ে রাজনীতি করছে। এটা ঠিক নয়। যদি দলের পক্ষ থেকে মানুষকে কিছু দিতে হয় তবে তা বাইরে থেকে কিনে দিন। আমাদের দলও কিনে দিচ্ছে।”

অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবং তার দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, যে তাঁরা লকডাউন মানছে না। তিনি বলেন মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন সত্ত্বেও রাস্তায় যাচ্ছেন এবং তাঁকে ঘিরে ভিড়ের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে তাঁর দলও রেশন বিলি করছে তার বেলা সংক্রমন হচ্ছে না তাঁদের বেলাতেই শুধু বাধা আসছে। রাজনীতি আসলে করছে তৃণমূল কংগ্রেসই। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কম দামের চাল নিজেরা দিচ্ছে বলে প্রচার করা হচ্ছে।

আরও অন্যান্য খবর