অবশেষে স্বীকার! বঙ্গে গোষ্ঠী সংক্রমণ মাত্রা ছাড়িয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে! মেনে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলায় করোনা’কে (Covid-19) নিয়ন্ত্রন করা যে এখন বেশ মুশকিলের তা একপ্রকার স্বীকার করেই নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamta banarji)। বাংলায় যে গোষ্ঠী সংক্রমণ (community spread) চরম রূপ ধারণ করেছে, তা কার্যত মেনেই নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মাত্র মাস দুয়েক আগেই তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল করোনা সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রন করার কথা। তিনি বলেছিলেন সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে করোনার সংক্রমণ। টেস্টিং, ট্র্যাকিং, ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে দ্রুপ করোনা রোগী চিহ্নিত করে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কিন্তু মিলছে না তার তখনকার আর এখনকার কথা। আজ যোগীর (Yogi adityanath) রাজ্যে তরুণীর গণধর্ষণ ও মৃত্যুর (Gang rape and murder) প্রতিবাদে শনিবার তিলোত্তমার রাস্তায় নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন তিনি। সেখানে পৌঁছেই প্রতিবাদ মঞ্চে সরব হন। ভাষণের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উঠে আসে করোনা প্রসঙ্গ। তিনি নিজেই জানান, তাঁর দলের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনজন বিধায়ক সম্প্রতি সংক্রমিত হয়েছেন। এই মারণ ভাইরাসের জেরে মৃত্যুও হয়েছে বেশ কয়েকজনের। এমনকী তিনি বলেন, তাঁকে যে ছেলেটি চা দিতে আসে, সেও করোনায় আক্রান্ত। তাই খুব সমস্যার মধ্যে দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে সংক্রমণের ভয়। এমনকী, কার কীভাবে সংক্রমণ হচ্ছে, তা এখন আর বোঝার উপায় নেই। তাই গোষ্ঠী সংক্রমণই যে হচ্ছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে।

একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সামাজিক দূরত্ব মেনে, মুখে মাস্ক দিয়েই মিটিং-মিছিল করতে হচ্ছে। দলের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সাবধানে থাকারই চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেও একটা দলের জন্য প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। কার থেকে কার শরীরে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে না। গোষ্ঠী সংক্রমণই হচ্ছে। একইসঙ্গে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি গেরুয়া দলকেই সবচেয়ে বড় মহামারী বলে উল্লেখ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে ইতিমধ্যেই সংক্রমিতের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৩ হাজার পেরিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজাররেও বেশি মানুষের। এরই সঙ্গে অবশ্য আনলক ফাইভে খুলে দেওয়া হচ্ছে সিনেমা হল। চালু হয়ে গিয়েছে মেট্রো রেল পরিষেবাও। তাই প্রশ্ন উঠছে, গোষ্ঠী সংক্রমণের কথা মেনে নিয়েও কীভাবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার? নাকি হার্ড ইমিউনিটিতে জোর দিচ্ছে সরকার?

RELATED Articles

Leave a Comment