নিয়ম করে কাক এসে ডিম খেয়ে যায়, রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দুর্দশা দেখে চোখ কপালে, শিশু-অন্তঃসত্ত্বাদের খাবার নিয়ে ছেলেখেলা!

মিড ডে মিল নিয়ে রাজ্যে অভিযোগের অন্ত নেই। নিম্নমানের খাবার থেকে শুরু করে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার সামগ্রী, পোকা ধরা চাল দেওয়া, খাবারে মরা সাপ, টিকটিকি এমন নানান অভিযোগ আসে রাজ্যের নানান অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি থেকে। এবার তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেহাল দশা নিয়ে অভিযোগ এল এবার।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

এই অভিযোগ উঠেছে চাঁপদানি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফেশুয়া বাগান এলাকার এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে। সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেহাল দশা নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। সেই কেন্দ্রে বাচ্চাদের জন্য যে রান্নাঘরে রান্না হয়, তার অবস্থা খুবই শোচনীয়।  

জানা গিয়েছে, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্নাঘরের মাথায় অ্যাসবেস্টাসের ছাউনি। কিন্তু সে এমনই ছাউনি কে তা ভেঙে গিয়ে দেখা যায় আকাশ। জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে। শীত, বর্ষায় কাজ করতে খুব সমস্যা হয় বলে জানান ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রাঁধুনি।

কী অভিযোগ করেছেন রাঁধুনি?

রাঁধুনিদের অভিযোগ, রান্নাঘর থেকে কাক বা অন্য পাখি এসে খাবার নিয়ে পালিয়ে যায়, এমন ঘটনাও ঘটে। বৃষ্টির সময় তো আরও বিপদ। অভিভাবকরাও বলেন, বাচ্চাদের খাবারে কী কী যে মেশে কে জানে। সবসময় ভয় হয়, বাচ্চাগুলোর কোনও ক্ষতি না হয় যেন।

ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রাঁধুনি জানান, “কাকগুলো বুঝে গিয়েছে এখানে রোজ রান্না হয়। ওরা ঠিক রান্নার সময় এসে হাজির সময়। ডিম রান্না করছি, এসে মুখ দিয়ে দেয়। পুরো ডিমটা তুলে নিয়ে যেতে না পারলেও নষ্ট করে দেয়। জানলারও কাচ নেই। সেখানেও এসব উৎপাত। খুব সমস্যা এই সেন্টারে। আগে এখানে ক্লাস হলেও এই অবস্থার জন্য বাচ্চাদের পাশে একটা ঘরে পড়ানো হয়। ঠিক হয় এখানে রান্না হবে। কিন্তু রান্নারও তো একই সমস্যা। একটা ভালো পড়ার ঘর আর রান্নার ঘর করে দিক প্রশাসন, এটুকুই চাই”।

এই ঘটনায় চাঁপদানি পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ মিশ্র জানান যে তাঁর কাছে এমন কোনও খবর নেই। তাঁর কথায়, “এর জন্য আলাদা দফতর আছে। তবুও পুরসভার পক্ষ থেকে আমরা রক্ষণাবেক্ষণ করে দিই”।

আরও অন্যান্য খবর