থ্রেট কালচার কলেজে কলেজে! ভর্তি হতে গেলে মেয়েদের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, ঘটছে শ্লীলতাহানির ঘটনাও, উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ

আর জি কর কাণ্ডের পর থেকেই নানান মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচারের বিষয়টি সামনে এসেছে। কীভাবে ভয় দেখিয়ে পড়ুয়াদের কোনও কাজ করতে বাধ্য করা হত, তা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে শুধুমাত্র মেডিক্যাল কলেজই নয়, এই থ্রেট কালচারের শাখাপ্রশাখা ছড়িয়েছে নানান সাধারণ কলেজগুলিতেও। সেখানেও চলছে ‘ভর্তি চক্র’। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেই কলেজে মিলছে অ্যাডমিশন, এমনটাই অভিযোগ উঠল এবার।

কলেজে অনার্স কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য নিজেকে বিক্রি করতে হচ্ছে মেয়েদের, এমনটাই অভিযোগ তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা পশ্চিমবঙ্গকে বাজারে পরিণত করেছেন। এখন রাজ্যে একটাই নীতি, ‘ফেলো কড়ি, মাখো তেল…’।

সুকান্ত মজুমদারের দাবী, “কলেজে শুধু থ্রেট কালচার নয়, ভর্তি চক্র চলে। আপনি তৃণমূল নেতাদের পয়সা দিন। অনেক ক্ষেত্রে বলতে খারাপ লাগছে। বেশ কিছু জায়গায় আমরা দেখেছি মেয়েদের সঙ্গে বিশেষ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের লোভ দিয়ে তাঁদের দেওয়া হয়। মানে অ্যাডমিশনের লোভ দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার মতো, শ্লীলতাহানি করার মতো ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলেজে ঘটছে”।

এরপর মমতাকে দেগে তিনি বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো পশ্চিমবঙ্গকে বাজার অর্থনীতির পুরো বাজারে পরিণত করে রেখেছেন। আপনি ফিজিক্স অনার্স চান, আপনাকে বাজারে গিয়ে বিক্রি হতে হবে। আপনি জিয়োগ্রাফিতে অনার্স চান বা হিস্ট্রিতে অনার্স চান, আপনাদের তৃণমূল নেতাদের সামনে গিয়ে বিক্রি হতে হবে। বাজারটা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী খুব ভালো বোঝেন। সেজন্য উনি গোটা রাজ্যটাকে বাজারে। ফেলো কড়ি, মাখো তেল। অন্য কোনও পলিসি নেই। পয়সা দিন, সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিন”।

তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কলেজে কলেজে এই চক্রকে কীভাবে প্রতিরোধ করবেন বা এর জন্য কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন কী না, সে বিষয়ে অবশ্য তিনি কিছু জানান নি। তাছাড়া বেশ কিছু জায়গা বলতে কোন কোন জায়গার কথা তিনি বলেছেন, সে বিষয়েও কিছু খোলসা করে জানান নি বিজেপি নেতা।

আরও পড়ুনঃ অসুস্থ আর জি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত টালা থানার প্রাক্তন ওসি, ভর্তি হাসপাতালে, হঠাৎ কী হল? তাঁর স্থানও এবার উডবার্ন ওয়ার্ড নয় তো? 

সুকান্ত মজুমদারের এহেন দাবীর পাল্টা দিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “এখন একটা জটিল পরিস্থিতি আছে রাজ্যে। আর সেই সুযোগে যাঁর যা ইচ্ছা, সেটা বলে যাচ্ছেন। মুখের কথায় তো জিএসটি নেই। তাই যা ইচ্ছা হচ্ছে, সেটাই বলে যাচ্ছেন সুকান্ত”।

আরও অন্যান্য খবর