একপাশে রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhash Chandra Bose) ও গান্ধীজির (Mahatma Gandhi) ছবি ও অন্যপাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Ishwar Chandra Vidyasagar) ও ক্ষুদিরাম বসুর (Khudiram Bose) ছবি। আর এই চার ছবির মাঝে হাসিমুখে আর একজনের ছবি। তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এমনই এক কাণ্ড দেখা গেল মেদিনীপুরের পুরসভার (Medinipur Municipality) সভাকক্ষের দেওয়ালে। চার মহান মনীষীদের মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ হইচই শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে এমন কাজ করে মনীষীদের অপমান করেছে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা। এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেতাজি, গান্ধীজি, বিদ্যাসাগর ও ক্ষুদিরাম বসুর মাঝখান থেকে সরিয়ে রাখা হয়। তবে ওই মনীষীদের সঙ্গে একই সারিতে রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর ছবি।
বলে রাখি, এবারের পুরসভা নির্বাচনে মেদিনীপুরে ওঠে সবুজ ঝড়। ২৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ২০টি আস। বাকি ৫টির মধ্যে সিপিএম পেয়েছে তিনটি, কংগ্রেস একটি ও নির্দল পেয়েছে একটি আসন। পুরপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূলের সৌমেন খান। জানা গিয়েছে, পুরসভায় একটি সভাকক্ষ রয়েছে যেখানে পুরসভার যাবতীয় বৈঠক হয়। সেই সভাকক্ষের দেওয়ালেই মনীষীদের ছবি রয়েছে।
কোনও সরকারি অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকা কোনও নতুন বিষয় নয়। তবে পুরসভার সভাকক্ষে নেতাজি, বিদ্যাসাগর, গান্ধীজি, ও ক্ষুদিরাম বসুর সঙ্গে একই সারিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, তা মেনে নিতে পারেছেন না সিপিএম কাউন্সিলার সৃজিতা দে বক্সী। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “কোন যুক্তিতে পুরসভায় মনীষীদের ছবির মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়েছে? এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ করছি। মনীষীদের অপমান করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার রাজ্যবাসীর শিক্ষা-সংস্কৃতি কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। মানুষকে বলব সজাগ হতে, প্রতিবাদ করতে”।
এই ঘটনার তীব্র কটাক্ষ করেন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অরূপ দাস। তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় মনীষীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন থেকে মেদিনীপুর পুরসভা সর্বত্রই প্রধান মনীষী, মুখ্য মনীষী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ধ্বংস করছে এই সরকার। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাজ্যজুড়ে নারী নির্যাতন,ধর্ষণ হচ্ছে। সেই দিকে নজর নেই”।
অন্যদিকে, কংগ্রেস কাউন্সিলর মহম্মদ সাইফুল বলেন, “তৃণমূলের আমলে এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রপাইটরশিপে দল চালাচ্ছেন। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি মালিক। বাকি সবাই কর্মচারী। কর্মচারীরা তাদের মালিককে কখনও দেবীর আসনে, কখনও মনীষীদের পাশে বসাচ্ছেন”।
কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই বিষয়ে অন্যায় কিছু দেখছে না। এই বিষয়ে পুর চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, “এতে কোনও অন্যায় বা ভুল হয়নি। আমরা মনীষীদের সম্মান করি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বাংলার জননেত্রী। তাঁর ছবি আমার রুমে এবং সভাকক্ষে রাখা রয়েছে। তাতে আমি মনে করি যে, আমি গর্বিত। এই ধরণের জননেত্রীর ছবি রেখে যে আমরা কাজ করছি, সেজন্য গর্বিত মনে হয়”।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!