তাঁর শরীর ভারী, তাই নাকি তিনি হেঁট হয়ে জুতোর ফিতে বাঁধতে পারেন না, তাঁর হয়ে তা বেঁধে দেন অন্য একজন। এই জুতো বেঁধে দেওয়ার ভিডিও সামনে আসতেই বিতর্ক তৈরি হয়। এরপরই বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের যুক্তি, যে তাঁর জুতোর ফিতে বেঁধে দেন, তিনি তাঁর ‘ভাইয়ের ব্যাটা’, অর্থাৎ ‘ভাইপো’।
গত বুধবার বর্ধমান পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাধারানী স্টেডিয়াম হলে তৃণমূলের তরফে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। এদিনের এই রক্তদান শিবিরে ৮০ জন রক্ত দেন। আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিধায়ক খোকন দাস।
আরও পড়ুন- মমতার ডাকে সুদূর আমেরিকা থেকে নবান্নে হাজির নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, চলল জরুরি বৈঠক
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পতাকা উত্তোলন করার পর পতাকার দড়ি কষে বাঁধলেন। পতাকা উত্তোলনের সময় জুতো খুলেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। পতাকা তোলা শেষ হতেই দেখা যায় কালো টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি এসে তাঁর পায়ে জুতো পরিয়ে দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে বিজেপির বর্ধমান শহর কমিটির আহ্বায়ক কল্লোল নন্দন সেন বলেন, তৃণমূল নেতা-বিধায়কদের অহংকার মানুষ দেখছে। সিপিএমের ছাত্রনেত্রী পৃথা জানান, তৃণমূলের যে ঐতিহ্য, এরই উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক। এতে তো অবাক হওয়ার কিছু নেই।
আরও পড়ুন- সন্ধ্যার ইতিহাস ক্লাস নেবেন না শিক্ষকরা, কোর্স বাঁচাতে নিজেই ক্লাস নিতে চান যাদবপুরের উপাচার্য
তবে এই জুতো পরিয়ে দেওয়া বা সরকারি আধিকারিকদের থেকে প্রণাম পাওয়া নিয়ে এর আগেও তৃণমূল নেতাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। প্রয়াত রচপাল সিং যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন এক পুলিশ কর্মীকে দেখা গিয়েছিল তাঁর জুতোর ফিতে বেঁধে দিতে। আবার এই কিছুদিন আগেই মন্ত্রী থাকার সময় রামপুরহাটের তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে দেখা যায় এক প্রশাসনিক আধিকারিককে। তবে এক্ষেত্রে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক বারবার বলেছেন যে ব্যক্তি তাঁর জুতোর ফিতে বেঁধে দিয়েছেন তিনি কোনও সরকারি আধিকারিক নন, তিনি তাঁর ‘ভাইয়ের ব্যাটা’।





