কিছুদিন আগেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (Board of Secondary Education) সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় (Ramanuj Ganguly)। আর এরই মধ্যে প্রবল বিতর্কে জড়ালেন তিনি। তাঁকে দেখা গেল তৃণমূলের কার্যালয়ে (TMC Party Office)। শাসকদলের লোকজন তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে জানালেন সম্বর্ধনাও। এমনই নানান ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দানা বেঁধেছে নানান বিতর্ক (controversy)। রাজ্যের মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতির তৃণমূলের কার্যালয়ে এমন উপস্থিতি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দেওয়ালে লাগানো ২১শে জুলাই, ‘শহিদ দিবস’এর ব্যানার। এর উপরে লেখা তৃণমূল কংগ্রেস। আর এর সামনেই দাঁড়িয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নতুন সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁ আশেপাশে রয়েছেন শাসকদলের লোকজন। তাঁর গলায় ঝুলছে তেরঙ্গা উত্তরীয়। তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে তাঁকে সম্বর্ধনা জানাচ্ছেন সকলে। এমন ছবিই তুমুল ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই ভিডিও সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগের অভিযোগ নিয়ে একদিকে গোটা রাজ্য যখন উত্তাল, সেই সময় তৃণমূলকে বিতর্ক থেকে দূরত্ব বাড়াতে দেখা গিয়েছিল। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ একটি স্বতন্ত্র সংস্থা, তার সঙ্গে তাঁদের ক্ষমতাসীন সরকারের কোনও যোগ নেই বলেও দাবী করতে দেখা যায় দলের নানান নেতাকে। সসেই কারণেই এখন প্রশ্ন, স্বশাসিত সংস্থার পদে থেকেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গেলেন কীভাবে?
তবে এই সমস্ত বিতর্কে মোটেই তেমন আমল দিতে চান না রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “শিক্ষকদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা নিয়েছি। পদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই”। কিন্তু স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের সচরাচর কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে বা দলীয় অনুষ্ঠানে দেখা যায় না”।এ
এই বিষয়ে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, “গোটা বিষয়টি অত্যন্ত অদ্ভুত বলে মনে করছি আমি। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি হন বা উপাচার্য, পদে বসার পর আর কোনও দলের লোক থাকেন না তাঁরা। পদে থাকাকালীন চকোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে সম্বর্ধনা নিতে পারেন না তাঁরা। এটা অশোভন বলে মনে হয় আমার”।
প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি পদে বসেন রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় এসএসসি বিতর্কে জড়ানোর পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে নতুন সভাপতি করা হয় রামানুজকে। এসএসসি বিতর্কের জেরে সিবিআইয়ের জেরার মুখেও পড়তে হয় কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে। তল্লাশি চালানো হয় তাঁর অফিসে।





