অবশেষে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই খুলল দফতর। পোস্টার-ফেস্টুনে তা আগেই ধরা পড়েছিল, এবার তার চাক্ষুষ সাক্ষী থাকলেন কাঁথি শহরের মানুষ। তৃণমূলের ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ের নাম বদলে হল ‘শুভেন্দুবাবুর সহায়তা কেন্দ্র’। তবে এসবের মধ্যে যে বিষয়টি সবথেকে বেশি জল্পনা তৈরি করেছে তা হল সহায়তা কেন্দ্রের রঙ। পুরনো কার্যালয়ের নীল-সাদা রঙ পালটে এসেছে গেরুয়া। এই নিয়েই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে।
গত বেশ কয়েকমাস ধরেই দলে শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলছে জল্পনা। শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা সেই জল্পনাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছিল। শুভেন্দুও শেষ কয়েকমাস ধরে দলহীন কর্মসূচী করছিলেন। কলকাতার নানা জায়গায় ‘দাদার অনুগামী’ পোস্টারে ছয়লাপ। এমনকি, পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনিপুরের নন্দীগ্রাম ও কাঁথি-৩ ব্লকের কুসুমপুরে ‘দাদার অনুগামী’-রা দফতরও খুলেছেন। কিন্রু এবার প্রথম সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নামে সহায়তা কেন্দ্র খোলা নিয়ে উত্তাপ বেড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
তবে, নীল-সাদা রঙ বদলে এই গেরুয়া রঙ ব্যবহারের প্রসঙ্গে শুভেন্দু মহল বেশ নিরুত্তাপ। এই ঘটনা শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদানের পথকে আরও প্রশস্ত করবে কী না, তা নিয়েই দানা বেঁধেছে জল্পনা। যদিও, শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক কণিষ্ক পণ্ডা এ বিষয়ে জানান, “গেরুয়া রং ত্যাগের প্রতীক। এই কারণেই তা ব্যবহার করা হয়েছে।’’
কিন্তু এর পিছনে কী আলাদা কোনও ইঙ্গিত রয়েছে? এ বিষয়ে কণিষ্ক স্পষ্ট জানান “তৃণমূলের সরকারকে উৎখাত করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যেই রাজ্য জুড়ে শুভেন্দু অনুগামীরা কাজ করে চলেছেন”। তিনি এও বলেন যে, ক্ষুদিরামের জন্মদিনে গড়বেতার সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, “পান্তা খাওয়া ছেলেটা আদর্শের জন্য লড়াই করছে”। সেই আদর্শের লড়াই থেকে শুভেন্দু কোনওভাবেই পিছপা হবেন না বলেই তিনি আশাবাদী।
এই বিষয়ে কণিষ্ক আরও জানান, পরবর্তীকালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি ব্লকেই শুভেন্দুর নামে সহায়তা কেন্দ্র খোলা হবে। তারপর রাজ্যের প্রতিটি জেলায় শুরু হবে শুভেন্দু অনুগামীরা নানান কাজ ও কর্মসূচী। আলাদা করে সহয়তা কেন্দ্র কেন খোলা হল? এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এই কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই কেন্দ্রে কেউ সমস্যা নিয়ে এলে প্রয়োজন মতো শুভেন্দুর নির্দেশে সব রকম সহযোগিতা করা হবে”। মুখে যাই বলা হোক না কেন, শুভেন্দুর এই নয়া উদ্যোগ ও গেরুয়া রঙের প্রতি তাঁর এত টান, এসব দেখার তাঁর পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনাকেই আরও বেশিমাত্রায় উস্কে দিল।





