মানা হচ্ছে না মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ ? ঘোষণার পরও বীরভূমে হকার উচ্ছেদ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

Eviction of hawkers in Birbhum: মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে এক মাসের জন্য উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখা হবে। সরকারি জমি থেকে বেআইনি দখলদারদের সরতে সময় দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে বীরভূমের একাধিক এলাকায় এই ঘোষণা সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়নি। শনিবার সকালে বোলপুরের চিত্রা মোড় এলাকায় ফুটপাথের দোকানগুলো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। বোলপুর পুরসভা এই অভিযান চালায়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রামপুরহাটেও উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা গেছে (Eviction of hawkers in Birbhum)। সেখানে শনিবার সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের পরিবার নিয়ে পথে নেমেছেন। তাদের সঙ্গে এক তৃণমূল নেতাকেও দেখা গেছে।

বোলপুরে পুরসভার উচ্ছেদ অভিযানে শুক্রবার অশান্তি দেখা দেয় (Eviction of hawkers in Birbhum)। চিত্রা মোড় এলাকাতেই ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি ছিল, বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে পুরসভার আধিকারিকেরা আবারও বুলডোজার চালান। একের পর এক ফুটপাথের দোকান ভেঙে ফেলা হয়। পুরসভা ওই দোকানিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোকানের বৈধ কাগজ দেখাতে বলেছিল, কিন্তু কেউ তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ। এর পরেই দোকান ভাঙার কাজ শুরু হয় (Eviction of hawkers in Birbhum)

রামপুরহাট পুরসভা এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে (Eviction of hawkers in Birbhum)। তাই শনিবার সকাল থেকে দোকানিরা পথে নেমেছেন। তাদের সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা সকলেই রয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে, বুলডোজার চালাতে দেওয়া হবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নয়, বরং রুটিরুজি বাঁচাতে সকলে একত্রে পথে নেমেছেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা সত্ত্বেও কেন উচ্ছেদ অভিযান চলছে তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে (Eviction of hawkers in Birbhum)

এক ব্যবসায়ী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর হঠকারী সিদ্ধান্তে রুজিরুটি বাঁচাতে আমরা সকলে পথে নেমেছি। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন এক মাস সময় দেওয়া হবে, কিন্তু তাঁরই আধিকারিকেরা এখানে বুলডোজার চালাচ্ছেন। আমরা কার কথা বিশ্বাস করব?”

এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দল এদের সংগঠিত করেনি। সরকারের তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা জাতীয় পতাকা নিয়ে পথে নেমেছি। ভারতের সংবিধান সকলকে ব্যবসা করে খাওয়ার অধিকার দিয়েছে। ২০১৪ সালের আইনে বলা হয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। তারপরেও বুলডোজার চলছে। যা আমরা এতদিন উত্তরপ্রদেশে চলতে দেখেছি। রামপুরহাটে বুলডোজার চালানো যাবে না। আমাদের লাশের উপর দিয়ে তা চালাতে হবে” (Eviction of hawkers in Birbhum)

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও রামপুরহাটে বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ’ শুক্রবার বুলডোজার নামিয়ে জেলা পুলিশের সহযোগিতায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করে। প্রথম দফায় রামপুরহাটে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের দুই ধারে থাকা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমে জোরদার হচ্ছে বীরভূমে (Eviction of hawkers in Birbhum)

RELATED Articles