যত দিন যাচ্চে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তেই থাকছে। আর এর জন্যই বার বার স্বাস্থ্য সংস্থা কড়া বার্তা দিচ্ছেন। যেখানে লোকজনের সমাগম বেশী, সেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কও বেশী। আর এ ক্ষেত্রে কোরোনার প্রভাব তীব্র হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য প্রশাসন বলছেন যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন জমায়েত ও জনবহুল এলাকা।
তাই পুরসভা ভোটের দিন নিশ্চিত হলেই কার্যত জোর কদমে মিটিং মিছিল জমায়েত শুরু হয়ও যাবে।
তাতে কি পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে? সংক্রমণ কি বাড়তে পারে? ভোট কি পিছিয়ে দেওয়া উচিত? রাজনৈতিক দলগুলি কিন্তু ভোট পিছনোর কথা বলতে এখনও নারাজ। সাবধান থাকার প্রয়োজনীয়তা সকলেই মানছেন কিন্তু কোনও দলই ভোট পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলতে চাইছে না। সাধারণ নাগরিকের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র।
ভোটের দায়িত্ব যাদের কাঁধে সেই নির্বাচন কমিশন বলছে, এ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগামী সোমবার সব রাজনৈতিক দলকে একটি বৈঠকে ডেকেছে কমিশন। সেখানে এই সংক্রান্ত কোনও প্রস্তাব এলে তা ভেবে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়া পুরসভার ভোট হওয়ার কথা। ১১১টি মধ্যে বাকি পুরসভার ভোট দু’দফায় করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “এখনও পর্যন্ত এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ভোট শুরু হওয়ার কথা। এ বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলির কোনও মতামত থাকলে, তা বিবেচনা করা যেতে পারে।”
এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোরও ভিন্ন মতামত। করোনার প্রকোপ এড়ানোর জন্য যদি জমায়েতের জন্য পুর নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করেনি। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘করোনার প্রকোপ রুখতে আমরা সব রকম ভাবেই সতর্ক রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন, সব রকমের সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু করোনার কথা মাথায় রেখে ভোট পিছিয়ে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত অন্তত এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।’’ সতর্কতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও আপোস করা হবে না। পরিস্থিতির উপরে সারাক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে।’’
ভোট পিছিয়ে দেওয়া উচিত, এ কথা হলফ করেবলতে পারছে না বিজেপি-ও। তাদের অভিযোগ পুরভোট ভোট তৃণমূল করাতে চাইছে না কারণ তারা হারের ভয় ভীত। তাই বহু পুরসভার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের সরকার সে সব জায়গায় নির্বাচন আটকে রেখেছে। কলকাতা এবং হাওড়ার পুরভোট আগে করিয়ে জেলার পুরসভার ভোটগুলো পরে করানো হতে পারে বলে যে সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে, সে প্রসঙ্গেও তোপ দাগছে বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলি। রাজ্য বিজেপির অন্যতম সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলছেন, ‘‘করোনাভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্বেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের চেয়েও বিপজ্জনক হল সন্ত্রাস ভাইরাস। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোখার জন্য যা যা পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, যে ভাবে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, তা তো করতেই হবে। কিন্তু পুরভোটের প্রশ্ন যখনই উঠছে, তখনই করোনাভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি করে আমাদের চিন্তায় রাখছে সন্ত্রাস ভাইরাস।”
বামেরাও করোনা ঝুঁকির কথা অস্বীকার করেছেন না তবে দিন ক্ষণ স্থির না হাওয়া পর্যন্ত ভোট পিছনোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মুখ খুলতে তাঁরা নারাজ। সিপিএম নেতা রবীন দেব বললেন, ‘‘করোনা সংক্রমণের একটা ঝুঁকি তো থাকছেই। যে ভাবে ভাইরাসটা ছড়িয়েছে, তাতে ঝুঁকির কথা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। সে কথাটা নিশ্চয়ই মাথায় রাখতে হবে। তবে নির্বাচনের তারিখ তো এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তারিখ আগে ঘোষিত হোক, তার পরে বলা যাবে যে, করোনার প্রকোপ এড়াতে কোনও রদবদল দরকার কি না।’’
পুরসভা নির্বাচনের দিন ক্ষণ ঘোষণার আগে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশন আগামী ১৬ মার্চ, সোমবার বেলা ৩টেয়। জাতীয় এবং আঞ্চলিক দলগুলিকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। বৈঠকে থাকবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস-সহ পদস্থ আধিকারিকেরা। ওই বৈঠকে পুরসভা ভোট এবং কোরোনার থাবা এড়িয়ে কিভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট করা যায় তা নিয়েই আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।






