কপালে টিকা, গলায় মালা, পথকুকুরদের দেবতা জ্ঞানে পুজো করলেন দম্পতি, কেন এমন আয়োজন?

কপালে তাদের আবিরের টিকা, গলায় পরানো রয়েছে গাঁদা ফুলের মালা। রাস্তায় এভাবেই ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল তাদেরকে। এভাবে তো সচরাচর দেখা যায় না। সেই নিয়ে তাই রাস্তাঘাটে লোকজন বলাকওয়াও শুরু করেছিল। কিছুক্ষণ পর জানা গেল এই রহস্যের কারণে। পথকুকুরদের পুজো করা হয়েছে। এক দম্পতি এই পুজোর আয়োজন করেছেন।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগরে। সেখানকার দম্পতি সঞ্চিতা পাল ও পিকাসো পাল কুকুর খুবই ভালোবাসেন। এলাকায় পশুপ্রেমী বলেই পরিচিত তারা। তারা এই পুজোর আয়োজন করেন গত শনিবার। রাস্তার কুকুরদের গলায় মালা পরিয়ে, ফুল দিয়ে পুজো করলেন তারা। তাদের কপালে এঁকে দিলেন টিকা। পুজোর পর আবার বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও করেছিলেন তারা। ভাত-মাংস ও নানান পদ ছিল মেনুতে।

কেন এই পুজো?

জানা গিয়েছে, নেপালে পালিত হয় কুকুর তিহার উৎসব। সেখানে তখন এভাবেই কুকুরদের পুজো করা হয়। শুধু নেপালই নয়, ভারতের উত্তরাখণ্ড, সিকিম-সহ অনেক অঞ্চলেই হয় এই উৎসব। এবার বাংলাতেও এই উৎসব পালন করলেন চন্দননগরের এই দম্পতি।

সঞ্চিতা পাল এই বিষয়ে বলেন যে উত্তর ভারতের দিকে এই উৎসব পালন করা হলেও, বাংলায় তা হয় না। তারা কালীপুজোর সময় এই উৎসব পালন করলেন যাতে মানুষকে সচেতন করা যায়। কারণ কালীপুজোর সময় অনেকেই বাজি ফাটিয়ে কুকুরদের উত্যক্ত করে। কুকুরদের লেজে পটকা বেঁধে তা ফাটান অনেকেই। এর জেরে মারা যায় অনেক কুকুর। এই ঘটনা বন্ধ করার সচেতন বার্তা দিয়েই এই উৎসব পালন করলেন এই দম্পতি।

প্রসঙ্গত, এই তিহার শেষ হয় কার্তিক শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে ভাইফোঁটায়। এই বছর ১১ই নভেম্বর কুকুর তিহার পালিত হয়েছে। শাস্ত্র মতে, যমরাজের দূত হল কুকুর। আবার শিবের অন্য এক রূপ কালভৈরবের বাহনও কুকুর। কথিত রয়েছে, যমলোকের ফটকগুলিতে নজরদারি থাকে কুকুরদের।

এই সমস্ত বিশ্বাসের কারণেই অনেকে এই বিশেষ দিনকে আবার ‘নরক চতুর্দশী’ হিসেবেও পালন করেন। গরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এই উৎসবটি প্রতি বছর মোটামুটি অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যেই পড়ে। 

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles