মমতা সরকারের রাজ্যে হাসপাতালে ৭৩% বেড ফাঁকা,রোগীরা ভর্তি হতে গেলে বেড অমিল কেন?

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন রাজ্যে নাকি হাসপাতালের বেডের কোনও অভাব নেই। এদিকে করোনা আক্রান্ত সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছেন স্রেফ বেডের অভাবে! রাজ্য সরকার জানিয়েছে রাজ্যের হাসপাতালে নাকি ৭৩% বেড ফাঁকা। অথচ পরপর দুদিন বাংলার দুই তরুণ প্রাণ ঝরে গেল বেডের অভাবে! তাহলে এত বেড যাচ্ছে কোথায়?

ইছাপুরের ১৮ বছরের কিশোর শুভ্রজিৎ এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথমে কামারহাটির বেসরকারি নার্সিং হোম, তারপরে ইএসআই হাসপাতাল, তারপর সাগর দত্ত সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং শেষে কলকাতা মেডিকেল কলেজ কোথাও বেড পায়নি সে। শেষে যখন তাঁর মা আত্মহত্যার হুমকি দিলেন, ১১ ঘণ্টা টালবাহানার পর বেড পেয়েছিল কিশোরটি কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শুক্রবার রাতেই মৃত্যু হয় ওই মেধাবী কিশোরের।

বছর ছাব্বিশের অশোক রুইদাস দক্ষিণ বারাসতের জয় নগরের বাসিন্দা। হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য যুবকের টাইফয়েড হয়েছিল। বারাসাতের নার্সিংহোম তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করেছিল। এসএসকেএমে নিয়ে যেতে উত্তর জোটে শম্ভুনাথ পণ্ডিতে যান। শম্ভুনাথ পণ্ডিত বলে; কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। কিন্তু কোথাও বেড পায়নি সে। শনিবার আবার ঝরে যায় এক তরুণ প্রাণ।

এদিকে শুক্রবার স্বাস্থ্য দপ্তর যে মেডিকেল বুলেটিন বার করেছে সেখানে লেখা রয়েছে রাজ্যের ১০ হাজার ৮৩০টি কোভিড বেডের মধ্যে ২৭ শতাংশ ভর্তি। তাহলে ৭৩% শতাংশ বেড ফাঁকা থাকলে বেড কেন পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষরা? সমস্ত ট্রিটমেন্ট কি সেলিব্রিটিদেরই প্রাপ্য? মাত্র একদিনের তফাতে বাংলায় দুটো তরতাজা প্রাণ চলে গেল মায়ের কোল খালি করে কেবলমাত্র প্রশাসনের চূড়ান্ত অব্যবস্থায়। মার্চ মাসে যে কলকাতা মেডিকেল কলেজকে দেশের প্রথম করোনা হাসপাতাল বলে সগর্বে ঘোষণা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চত্বরেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করল এই দুই তরুণ প্রাণ।

এত বেড যাচ্ছে কোথায়? স্বাস্থ্য ভবন বলছে; ‘সমন্বয়ের অভাব’। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলেই তিনি বলবেন, বিরোধীদের চক্রান্ত, রাজনীতি করবেন না। এই করেই তো চলছে।

RELATED Articles

Leave a Comment