শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন তিনি। তাঁর নানান পর্যবেক্ষণের কারণেই চাকরিপ্রার্থীদের কাছে ভগবান হয়ে ওঠেন তিনি। তবে এবার বিচারব্যবস্থার পাঠ চুকিয়ে তিনি ভিড়েছেন রাজনীতিতে। এবার সেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে তুলোধোনা করলেন সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর। তাঁর কথায়, হাজার হাজার যুবক-যুবতীর স্বপ্নভঙ্গ করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
কী বলেছেন দীপ্সিতা?
লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন দীপ্সিতা ধর। এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে নানান বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি তাঁর কথায় উঠে আসে প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি নেতা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। এই নিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনও মানুষ নির্বাচনে লড়তেই পারেন। বিচারপতির আসন ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বহু যুবক-যুবতীর আশাভঙ্গ করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যিনি এতদিন বড় বড় কথা বললেন। তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থায় ধাক্কা তো খাবেই”।
কিছুদিন আগেই বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি ধর্মে বিশ্বাস করেন, তাই তিনি সিপিএমে যোগ দেন নি। তাঁর এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে দীপ্সিতা বলেন, “আসলে ধর্ম মানে আমরা কী বুঝি? মানুষের পাশে থাকা ছাড়া বড় ধর্ম হয়? যাঁরা মানুষের জন্য কিছু করেন না, চোরেদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের কাছ থেকে ধর্ম নিয়ে জ্ঞান শুনব না”।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিচারপতি থাকাকালীন তাঁর নানান রায়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে পেয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু তিনি বিচারপতির পদ ছেড়ে দেওয়ায় আশা ভঙ্গ হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের। একসময় বিচারপতি থাকাকালীন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছিল সিপিএম। এই নিয়ে দীপ্সিতা বলেন, “আমরা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। তাঁর জাজমেন্টের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ব্যক্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই”।
এদিন দীপ্সিতার কথায় উঠে আসে শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। নির্বাচনের জন্য কল্যাণকে শুভেচ্ছা জানান দীপ্সিতা। বলেন, “আমার মনে হয় সাধারণ মানুষ খতিয়ান চান। সাংসদ হিসাবে কী করেছেন না করেছেন তার খতিয়ান চান সাধারণ মানুষ। আমার মনে হয় সাংসদের দায়িত্ব পূরণ করেননি কল্যাণবাবু। ব্যক্তিগত আক্রমণের কোনও জায়গা নেই। শুভেচ্ছা জানাই”।





