খরচ বাঁচানোর জন্য এবার এক বড় সিদ্ধান্ত নিল বাম শিবির। ভাঁড়ারে টান পড়ার কারণে শেষমেশ এবার গাড়ি বিক্রি করবে সিপিএমের জেলা কমিটি। যদিও দলের তরফে একথা মানতে নারাজ। তাদের কথায়, গাড়িগুলি পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে তা বিক্রি করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কার্যালয়ে যে ৬টি গাড়ি রয়েছে, তার মধ্যে ৩টি বড় গাড়ি ও ৩টি ছোটো গাড়ি। বর্তমানে পুরনো গাড়ি হিসেবে এর বাজার মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। এই গাড়িগুলিই বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির তরফে।
এবার প্রশ্ন উঠেছে যে দলের ক্রমাগত ক্ষমতা কমে যাওয়া বা সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়া ও খরচের জোগানে টান পড়ার কারণেই কী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম শিবির? ২০১৭ সালে বর্ধমান জেলা ভাগ হয়ে গিয়েছে। আর এর জেরে লেভি সংগ্রহ কমেছে দলের। এছাড়া গাড়ির ব্যবহারও কমেছে। দীর্ঘদিন আগে কেনা হয়েছিল এই গাড়িগুলি। তা এখন বেশ পুরনো হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই তা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমনটাই জানানো হয়েছে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে।
এই বিষয়ে সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ হোসেন বলেন, “বিষয়টি লেভির কারণে নয়। বহু কারণে গাড়িগুলি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনিতেই গাড়ি পুরনো হয়েছে। মেরামতির খরচও বেড়েছে। এসব গাড়ি রাখা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এত খরচ বহন করা দলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জেলা কমিটির তরফে গাড়িগুলি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে”।
তবে বর্তমানে দলের সদস্য সংখ্যা একটু বেড়েছে। তবে দলের আয় সেভাবে কিন্তু বাড়ে নি। এর অন্যতম কারণ হল দলে যুব ও ছাত্রদের সংখ্যা বেড়েছে আর তাদের বেশীরভাগই কর্মহীন। ফলের তাদের পক্ষে নিয়মিত লেভি দেওয়াটা একটু সমস্যার বিষয়। সবমিলিয়ে জেলা সিপিএমের ভাঁড়ারে যে টান পড়েছে, তা বেশ স্পষ্ট। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই পুরনো গাড়িগুলি বিক্রি করে খরচ বাঁচানোর পথ বেছে নিয়েছে লাল শিবির।





