খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অন্যান্য বড় বড় ব্যাঙ্কগুলিকে বেশ টক্কর দিয়ে চলেভহে বন্ধন ব্যাঙ্ক। এই ব্যাঙ্ক থেকে লোণ নিয়ে অনেক গ্রাহকই বেশ উপকৃত হয়েছেন। এই ব্যাঙ্কের নানান অফারের জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই সকলের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ব্যাঙ্ক। তবে এবার এই বন্ধন ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেই বড় জালিয়াতির অভিযোগ উঠল।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, এক মহিলা বেশ কিছু অভিযোগ করছেন বন্ধন ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। মহিলার কথায়, কিছুমাস আগে মৃত্যু হয়েছে তাঁর মায়ের। বন্ধন ব্যাঙ্কের মদনপুর শাখায় তাঁর মায়ের একটি বিমা ছিল। আর সেই বিমার টাকা নিয়েই ঝামেলা।
মহিলা জানান, তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর বিমার টাকার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে যোগাযোগ করা হয় তাদের সঙ্গে। সেই অনুযায়ী, তাঁর বাবা বন্ধন ব্যাঙ্কের ওই শাখায় গিয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সাক্ষর করেন। এমনকি, টাকার জন্য চেকেও সাক্ষর করানো হয় ওই ব্যক্তিকে দিয়ে। কিন্তু মহিলার দাবী, সব শেষে ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়, সেই বিমার টাকা তারা হাতে পাবেন না কারণ সেই টাকা ওই মহিলার মায়ের নেওয়ার লোণের সুদের জন্য শোধ করতে হবে।
ভিডিও করে বন্ধন ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন ওই মহিলা (যদিও এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করে নি খবর ২৪x৭)। জানা গিয়েছে, লকডাউন চলাকালীন, ওই মহিলার মা বন্ধন ব্যাঙ্ক থেকে কিছু টাকা লোণ নিয়েছিলেন। সেই টাকার কিছুটা শোধও করেন তিনি। তবে কিছুমাস আগে মৃত্যু হয় ওই গ্রাহকের।
মৃত ওই গ্রাহকের একটি বিমা ছিল বন্ধন ব্যাঙ্কে। মৃত্যুর পর সেই বিমার টাকা ম্যাচিওর হওয়ায় তাঁর পরিবারকে জানানো হয়। কিন্তু ব্যাঙ্কের দাবী, মৃত গ্রাহকের বিমার সেই টাকা গ্রাহকের পরিবারকে না দিয়ে সেই টাকাই ওই গ্রাহকের নেওয়া লোণের জন্য পরিশোধ করা হবে। ভিডিওতে মহিলার অভিযোগ, এই বিষয়ে প্রথমে ব্যাঙ্কের তরফে কিছু জানানো হয়নি তাঁর বাবাকে। সমস্ত সাক্ষর করানোর পর এমনকি চেকে সাক্ষর করিয়ে নেওয়ার পর একথা মৃত গ্রাহকের স্বামীকে জানায় ব্যাঙ্ক।
এই কারণেই ব্যাঙ্কের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন ওই মৃত গ্রাহকের মেয়ে। তাঁর অভিযোগ, যদি বিমার টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তাহলে সেকথা ব্যাঙ্কের তরফে প্রথমেই কেন জানানো হয়নি বা ব্যাঙ্কের প্রধান শাখা থেকে মেসেজ আসার সময় সেকথা মেসেজে কেন আসে নি। মহিলার অভিযোগ, তাঁর মৃত মায়ের বিমার টাকা ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা হরপ করবেন বলেই তাদের সঙ্গে এমন জালিয়াতি করা হচ্ছে।
মহিলা এই সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তাঁর দাবী, এই ঘটনা বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রধান শাখায় পৌঁছক। সেখান থেকে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই ঘটনার। এই নিয়ে পুলিশের কাছে যাবেন বলেও জানান ওই মহিলা। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ওই বিমার টাকা পেয়েছেন কী না, তা এখনও জানা যায়নি।





